গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পোকা

আতংকের কিছু নেই

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৪
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে যেসব পোকার আক্রমণ হয়েছে সেটা নিয়ে আতংকের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ টিম। তবে পোকাটি উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে পোকার উপদ্রবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহ ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম শুক্রবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ পরিদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, আক্রমণকারী পোকার নাম জায়ান্ট মিলিবাগ। বৈজ্ঞানিক নাম ডোরোসিকা মেনজিফেরা। পোকাগুলো ১ সেন্টিমিটার বা তার অধিক লম্বা হয়। এটি অনেকটা ডিম্বাকৃতির। এই পোকা আম, কাঁঠাল, পেঁপে, রেইনট্রি, লেবু জাতীয় ফলদ উদ্ভিদে আক্রমণ করে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী জানান, পোকাগুলো সাধারণত মাটির নিচে ডিম পাড়ে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ডিম ফুটে বের হয়ে খাবারের জন্য আশপাশের গাছের কচিপাতা, নতুন শাখা, কাণ্ড, ফুলের কুঁড়িতে অবস্থান করে। এ অবস্থায় পোকাগুলো মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত গাছ থেকে খাবার সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পৌঁছে। এরপর মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পোকাগুলো পূর্ণবয়স্ক হয়ে ডিম পাড়ার জন্য উপযোগী জায়গা খোঁজার জন্য মাটিতে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞ দলের আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফ জানান, পোকাটি উদ্ভিদের কচিপাতা, নতুন শাখা, ফুলের কুঁড়ি এবং ফলের রস চুষে খায়। ফলে আক্রান্ত গাছটি নিস্তেজ হয়ে মারা যেতে পারে। পোকাগুলো ডিম পাড়ার জন্য মাটি খুঁজে না পেয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি, আক্রান্ত গাছের চারপাশ গর্ত করে কেরোসিন মিশ্রিত পানি দিয়ে রাখতে। এর ফলে পোকাগুলো মারা যেতে পারে। কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নিশাত পারভিন বলেন, এছাড়া পোকাগুলো ঝাড়ু দিয়ে একটা গর্তের মধ্যে চাপা দিতে এবং পুড়িয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও একজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। আমি তাকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের কথা জানিয়েছি।