সাফল্য পেতে স্ট্রবেরি চাষে মন ঢেলেছেন আতাউর

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৫
নীলফামারীর সৈয়দপুরের পল্লীতে ভিনদেশি সুস্বাদু ও দামি ফল স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আতাউর রহমান (২৫) নামে এক যুবক। লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি প্রতি পিস বিক্রি করছেন ৮/১০ টাকায় আর কেজি বিক্রি করছেন সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকায়। তার স্ট্রবেরি ক্ষেত পরিদর্শনে আসছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ডিগ্রি পাস যুবক আতাউর রহমান। তিনি ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নেন। মন বসাতে পারলেন না। চাকরি ছেড়ে চলে এলেন বাড়িতে। মনে মনে স্থির করলেন বিদেশে যাবেন, কিন্তু অর্থাভাবে তার বিদেশে যাওয়া হলো না। পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনে স্ট্রবেরি বিষয়ক প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হন আতাউর রহমান। চারা সংগ্রহের জন্য খোঁজ শুরু করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেনের কাছ থেকে ১৩শ’ চারা সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে প্রথমে ২০০৯ সালে শুরু করেন চাষাবাদ। শীতপ্রধান দেশের ফল সৈয়দপুরের মাটিতে ফলতে দেখে নিজেই অবাক হন তিনি। আতাউর জানান, সৈয়দপুর শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সামনে পচানালার উপর এক টুকরো উঁচু জমি বার্ষিক ১৫শ’ টাকায় ইজারা নিয়ে চাষ শুরু করেন স্ট্রবেরি। সেখানে লাভবান হওয়ার পর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষি প্রযুক্তি গ্রাম দক্ষিণ নিয়ামতপুরে এক বিঘা জমি বার্ষিক ২১ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে এবছর স্ট্রবেরির চাষ করেছেন। তিনি জানান, বারী-১, রাবি-৩ ও ফেষ্টুবার এই তিন জাতের স্ট্রবেরি এদেশে আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে এখানকার মাটি ও আবহাওয়া-উপযোগী ফেষ্টুবার জাতের স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। জয়পুরহাটের এক নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে ক্ষেতে লাগিয়ে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে ফল উত্পাদন করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। রোদের তীব্রতা থেকে স্ট্রবেরি গাছকে বাঁচাতে সাথী ফসল হিসেবে শসার চাষ করা যায়। শসার মাচা অনেকটা ছায়ার মত কাজ করবে। তার মতে, উত্তরের জেলাগুলোতে বেশিদিন শীত থাকে। তাই এখানে শীতের চার মাস অনায়াসে স্ট্রবেরি চাষ করা সম্ভব। সৈয়দপুরে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই ফল ফলানো সম্ভব। তিনি ইতিমধ্যে ২৬ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেছেন এবং আরও ১ লাখ টাকার উপরে চারা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। এই ক্ষেত থেকে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হবে এবং স্ট্রবেরি উত্পাদনের খরচ শুধু চারা বিক্রি করে উঠে আসবে বলে জানান তিনি। তার ক্ষেত থেকে প্রায় প্রতিদিনই স্ট্রবেরি চুরি যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ক্ষেতের ফল চুরি না হলে এই ক্ষেত থেকেই প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হবে। স্ট্রবেরি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফল। পৃথিবীতে যত রকম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল আছে তার মধ্যে স্ট্রবেরি অন্যতম। আমেরিকার ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, স্ট্রবেরি জীবন রক্ষাকারী নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে আছে ভিটামিন এ,সি,ই,কে,বি-সিক্স, ওমেগা-৩ এবং ফলিক এসিড, মেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, পলিফেনল। এলাজিক, ফেরালিক এবং কুমারিক এসিড, কুয়ের মিটিন, জ্যন্থোমাইসিডিন এবং ফাই টোষ্টেরল। এর মধ্যে এলাজিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধী, পৌড়ত্ব প্রতিরোধী। এমন কি এইডস রোগ প্রতিরোধী হিসাবেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্ট্রবেরি খেলে মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমায়। যার ফলে হূদরোগের শঙ্কা অনেক কমে যায়। নিয়মিত খেলে পাকস্থলী, অন্ত্রে ও চর্ম ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শরীরের কোলেস্টেরল কমায়। স্ট্রবেরিতে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়। গেঁটে বাত থেকেও শরীরকে রক্ষা করে। আতাউরের বাবা আব্দুর রহমান। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। বাবার চাকরি সূত্রে বাবার সাথে সৈয়দপুরে অবস্থান করছেন। আতাউরের স্ট্রবেরি বাগান দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। তিনি প্রথমে ফেরি করে স্ট্রবেরি বাজারে বিক্রি করলেও বর্তমানে অনেক দোকানদার ও বাইরের লোকজন তার উত্পাদিত স্ট্রবেরি কিনে নিচ্ছেন। আগামীতে আরো বেশি জমি নিয়ে স্ট্রবেরি চাষে ও মার্কেটিংয়ে নামবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।