বিশ্বের সবচাইতে জনবহুল দেশের তালিকায় চীনের পরেই থাকা ভারতের নির্বাচনকে বলা হয় সবচাইতে বড় ‘গণতান্ত্রিক উত্সব’। ৮১ কোটি ৪৫ লাখের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণে চলমান এই নির্বাচনে নারী ভোটার ৪৮ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার ১৬টি রাজ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে পুরুষ ভোটার সংখ্যাকে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নারী সচেতনতার কথা। সামগ্রিকভাবে নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়লেও প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সবদলেই নারী কম গুরুত্ব পেয়েছে। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নারী প্রার্থী ছিলো ১৩ শতাংশ, মাত্র ৪৫ জন। পরের বার ছিলো ৪৩ জন। অবশ্য এবার কিছুটা বেড়েছে। এবছরের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জন।
অপর প্রধানদল বিজেপিতে অবশ্য অবস্থা আরো খারাপ। ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৩০ জন, ২০০৯ সালে ৪৪ জন এবং এবছর মাত্র ৩৬ জন।
এই নির্বাচনে ঘুরে-ফিরে গণমাধ্যম ও গণমানুষের মধ্যে আলোচনায় আসছে হাতে গোনা কয়েকজন নারীর নাম। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী শুধু ভারতেই নয়, সারাবিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক সাময়িকি ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের নবম ক্ষমতাধর নারী সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের প্রধান। তবে গতবার কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে ভাবা হচ্ছিলো তিনিই হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি দলের প্রধান পদে থাকলেও মনমোহন সিংকে দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। মনমোহন প্রধানমন্ত্রী হলেও রিমোট ছিলো সোনিয়া গান্ধীর হাতেই, বিজেপির পক্ষ থেকে এমনটাই অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে মা সোনিয়া গান্ধীর পক্ষে ভাই রাহুলের হয়ে বহু প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভারতের রাজনীতির অঙ্গনে ভালই সাড়া ফেলেছেন প্রিয়াংকা গান্ধী। কংগ্রেস পরিবারের বাইরে আরেক প্রভাবশালী নেত্রী তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা। এবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঝামেলা এবং দলে টালিউড সেলেব্রেটিদের মনোনয়ন দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেনও আছেন সে তালিকায়। এছাড়া এআইএডিএমকে প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের রাজনীতির পরিচিত মুখ। উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীও আছেন আলোচনায়।
এবছর আমেথিতে কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রধান উত্তরাধিকার রাহুল গান্ধীর বিপক্ষে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি। মথুরা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একসময়ের বলিউড ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী। আম আদমির পক্ষে স্টার নিউজের সাবেক সাংবাদিক সাজিয়া ইলমি আছেন আলোচনায়।
এছাড়া মিরাট আসনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন নাগমা। আর বলিউড অভিনেত্রী জয়াপ্রদা আরএলডি থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুজাফফরনগর জেলার বিজনর আসনে।
প্রার্থী নন, মন্দিরে প্রার্থনা ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায়ও মাঠে নামেননি, তবু আলোচনায় আছেন প্রধানমন্ত্রী পদের জোর দাবিদার নরেন্দ্র মোদির ‘সদ্য’ স্বীকৃত বউ যশোদাবেন। এতদিন অবিবাহিত জানা নরেন্দ্র মোদি বোমা ফাটান নির্বাচনী হলফনামায় বিবাহিত এবং বউ হিসেবে যশোদাবেনের নাম লিখে। ৪৭ বছর গোপন রাখার পর তিনি জানালেন ১৭ বছর বয়সে যশোদার সঙ্গে মালাবদলের কথা। বিতর্ক ওঠে কেন তিনি এতদিন বিষয়টি স্বীকার করেননি। প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারে তাই যশোদাবেন একটি অস্ত্র হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।
৭ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে ১৬ মে জানা যাবে ভারতের রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন কতটুকু বাস্তবতা পেলো। এছাড়া বলিউড অভিনেত্রী গুল পানাগ আছেন নির্বাচনী দৌঁড়ে। আছেন বিতর্কের রাণী খ্যাত রাখি সায়ান্ত। গুল পানাগ আম আদমির পক্ষে লড়ছেন।
