‘চলে যাচ্ছি দোস্ত! একদম নেটওয়ার্কের বাইরে!!’। সাব্বির হাসানের ফেসবুক স্ট্যাটাস। সেই সাব্বির চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সম্প্রতি সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন ছাত্র। তাদের একজন সাব্বির। প্রতিনিয়ত তাদের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের এই ছাত্রের বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় মা সেলিনা আক্তার শুধু কাঁদছেন। আর বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে ছবি হতে দেব না। হে আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। আল্লাহ আমি তোমার কাছে ছেলের জীবন ভিক্ষা চাই।’
শুধু সাব্বির নয়। অন্যদের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিকটজনরা তাদের সান্ব্তনা দিচ্ছে। তবে তারা তো আর ফিরে পাবে না তাদের প্রিয় সন্তানকে। বেড়াতে যাওয়া ভালো। তবে অতি উত্সাহ অবশ্যই ভালো নয়। একটু সচেতন হলে এড়ানো সম্ভব দুর্ঘটনা।
এখন কথা হচ্ছে বেড়াতে যাওয়াই কি কাল হলো এই ছাত্রদের জন্য। সেটা হয়ত ঠিক আছে। তাই বলে একবাক্যে যদি আমরা বেড়াতে যাওয়ার সমালোচনা করি সেটা শোভনীয় নয়। দর্শনীয় স্থানগুলোতে আমরা দেখি পর্যাপ্ত দিক-নির্দেশনা দেয়া থাকে না। যার ফলে অনেক সময় দর্শনার্থীরা ভুল করে ফেলে। দর্শনার্থীরা সব সময় নতুন একটা জায়গায় গেলে উত্সুক হবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের অতি উত্সাহ যাতে বিপদের কারণ না হয় সেটার জন্য নির্দেশনা থাকা জরুরি। কেননা নির্দেশনা দেখলে হয়ত বিপদ হতে পারে এমন কিছু করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে দর্শনার্থীরা। তাহলে আর কোন মায়ের বুক খালি হবে না। শোকাহত হতে হবে না পুরো জাতিকে।
বাবা-মা তথা অভিভাকদের সচেতন হতে হবে। সন্তানরা কার সঙ্গে যাচ্ছে। সেটা বুঝে তাকে যেতে দিতে হবে। যদি শিক্ষকরা সঙ্গে থাকে তখন শিক্ষার্থীরা চাইলেই অতি উত্সাহী কাজ করতে পারে না। তাই এই বিষয়টিরও গুরুত্ব আছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সেন্টমার্টিন বেড়াতে এসে সাগরে গোসল করতে নামে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ শিক্ষার্থী। এসময় প্রচণ্ড ভাটার টানে ১০ ছাত্র সাগরে ডুবে যায়। এদের মধ্যে স্থানীয় লোকজন ৬ জনকে উদ্ধার করলে তাদের মধ্যে মানফেজুল ইসলাম ইভান ও সাদ্দাম হোসেন অংকুর নামে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও এখনো ২ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে।
