শিক্ষা জীবন শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহোদয়ের কাছ থেকে পাওয়া সনদ একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের প্রাপ্তি। সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি হন আচার্য। সাধারণত রাষ্ট্রের সবচেয়ে মহামান্য ব্যক্তিই এ পদে থাকেন। তাই তার কাছ থেকে শিক্ষা সমাপনী সনদ নেয়া সন্দেহাতীতভাবে চরম আরাধ্য প্রত্যেকের কাছেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তনে অংশ নিয়ে নিজেকে চরম সৌভাগ্যবান মনে করেন দর্শন বিভাগের কবিতা পাল। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন ভেন্যুতে প্রবেশের আগে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা শেষ করার পর মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সনদ পাওয়াটা অপার আনন্দের।
কথা হয় মিথি আলমের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়া প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাওয়ার। সমাবর্তন হলো শিক্ষার্থীদের সেই স্বপ্ন পূরণের দিন। দুপুরে সমাবর্তন সভাপতি, আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও সমাবর্তনের বক্তার প্রবেশের পর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সমাবর্তন শুরু হয়। এবারের ৪৮তম সমাবর্তনে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন স্তরের ডিগ্রিধারী মোট ৮ হাজার ৩১২ জন গ্রাজুয়েট। গ্রাজুয়েটদের ৩৮ জনকে পিএইচডি, ২৫ জনকে এমফিল, ৩৩ জনকে স্বর্ণপদক দেয়া হয়।
সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন সমাবর্তনের বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার রিসার্সের (সার্ন) মহাপরিচালক অধ্যাপক রোলফ হুয়ের। ফিনান্স বিভাগের মৌ জানালেন, এমন একটা দিন আমৃত্যুই জীবনের সবচেয়ে প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। কিভাবে কাটলো সারাদিন? প্রশ্নটাই বোকামি বললেন রিমা। রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানালেন, সমাবর্তনে অংশ নেয়া ছাড়াও সমাবর্তন উপলক্ষে তার আগে ও পরে নানা অনুষঙ্গও দারুণ উপভোগ্য। আড্ডা, হই-হুল্লোড়, ঘোরাঘুরি, ফটোসেশন, নতুন পুরনো বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে হারিয়ে যাওয়ার একটা দিন-সমাজকর্ম বিভাগের কাজী রোমেলা এভাবেই জানালেন সমাবর্তন অভিজ্ঞতা।
