অভিমান করে ফোন বন্ধ রেখেছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চাকরিচ্যুত কোচ মারুফুল হক। ফোনে না পেয়ে কাল দুপুরে মারুফের কর্মস্থল বুয়েটে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন সংবাদ কর্মীরা। হঠাত্ করে শেখ রাসেলের সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলো কেন? জবাবে মারুফুল হক বললেন তিনি নিজেও নাকি জানতেন না তাকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।
বরং জানালেন শনিবার সকালে বিকালের অনুশীলন পরিকল্পনা করে রাখার পর দুপুরে ফোন আসে শেখ রাসেল ক্লাব ডেকে নিয়ে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় নতুন কোচ এসেছেন। তাকে আর দরকার নেই। বিস্মিত হয়েছেন ক্লাবের আকস্মিক এই সিদ্ধান্ত শুনে। শেখ রাসেল ক্লাব কর্মকর্তাদের এহেন আরচণ দেখে দলের খেলোয়াড়রাও হতবাক হয়েছেন। তারা বলছেন যে কোচ সাফল্য দিলো। ট্রেবল জয় করে দিলো তাকে এভাবে বিদায়ের ঘটনা নজিরবিহীন। খেলোয়াড়রা বলছেন দলে উইংব্যাক দুর্বল। মাঝমাঠে শক্তি নেই। স্ট্রাইকিং পজিশনে নেই কোনো দাপট। আমরা নিজেরাও ভালো খেলতে পারছি না। অথচ বলিরপাঠা হলেন কোচ। জানা গেছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকিং শটে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তার খেলোয়াড়রা। সেই কারণে কোচের উপর দায় চাপিয়ে মারুফকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যারা টাইব্রেকিংয়ে গোল করতে পারেননি তারা। অনুশীলনেও গোল করতে পারেনি। কেন তাদের মারতে দেয়া হলো। এটাই নাকি কোচের ব্যর্থতা। কোচ মারুফ ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু টাইব্রেকিংয়ে পৃথিবীর বড় বড় ফুটবলার গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফুটবল দুনিয়ায় সে উদাহরণ ভুরিভুরি। তার পরও দায়িত্বে অবহেলা দেখিয়ে শোকজ করা হয় কোচকে। ৯ এপ্রিল হাতে শোকজ চিঠি খুলে দেখেন ১০ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে হবে। মারুফুল হক বলেন, ‘আমি দেরি না করে আধ ঘন্টার মধ্যে জবাব লিখে জানিয়ে দিয়েছিলাম। এমন পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। জানলে তো আমি এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলের জন্য দল নিয়ে পরিকল্পনা করতাম না।’
ট্রেবল জয়ী দলে খেলেছেন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলাররা। কিন্তু সেই দলটা ধরে রাখেননি শেখ রাসেল। দলে ভালো অফার না পেয়ে অনেকেই দল ছেড়ে চলে গেছেন। অবশিষ্ট ফুটবলারদের নিয়ে কোচ মারুফুল হক কঠিন অভিযানে নামেন। তার পরও কোচ বললেন আমরা দলটা ভালো ছিল। আমরা জেতা জয়গুলো উপহার দিয়ে এসেছি মাঠে। স্ট্রাইকিং পজিশনে বিদেশি স্ট্রাইকাররা ভালো করতে পারেনি। উয়েফার এ লাইসেন্স করা কোচটি বলেন, বিদেশি ফুটবলাররা ভালো খেললে দেশি ফুটবলাররা প্রভাবিত হন। কিন্তু এখানে তো সেটা হয়নি।’
বাংলাদেশের ফুটবলে মারুফুল হক এর আগে মোহামেডানকে প্রথম সুপার কাপ ফুটবল ট্রফি, ফেডারেশন কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন, দুইবার লিগ রানার্সআপ, মুক্তিযোদ্ধাকে লিগ রানার্সআপ, শেখ রাসেলকে ট্রেবল জেতান।
