চিরনিদ্রায় শায়িত বরেণ্য শিল্পী বশির আহমেদ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৫
‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা’— এসব কালজয়ী গানের স্রষ্টা শিল্পী বশির আহমেদ। আধুনিক বাংলা ও চলচ্চিত্রের অসংখ্য গান দিয়ে শ্রোতাদের হূদয় জয় করেছিলেন তিনি। শ্রোতা-অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে গতকাল চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তীতুল্য এই কণ্ঠশিল্পী। বাদ জোহর মোহাম্মদপুর চাঁদের হাট মাঠে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর তাজমহল রোড কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। সকাল থেকে তার বাসভবনের নিচে রাখা হয় মরদেহ। সেখানে ভক্ত-অনুরাগীরা তাকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানান; কিন্তু অসংখ্য শিল্পীর জন্ম দেয়া গুণী এই মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে আসেননি জনপ্রিয় শিল্পীরা। বশির আহমেদকে শেষ বারের মতো দেখতে তার বাসভবনে গিয়েছিলেন গীতিকার ও সুরকার সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান, সংগীত শিল্পী আপেল মাহমুদ, শিল্পী আব্দুল জব্বার, লতিফা হেলেন, কবি-গীতিকার নাসির আহমেদ, শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, শিল্পী কনকচাঁপা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শংকর সাঁওজাল, চিত্রনায়ক ওমর সানীসহ তার ভক্ত অনুরাগীরা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হার্টের সমস্যা ও ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। গীতিকার নাসির আহমেদ বশির আহমেদের কীর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ এই কালজয়ী গানটির সুরস্রষ্টা ছিলেন তিনি। এমন অসংখ্য গানের স্রষ্টার চলে যাওয়ার দিনে তাকে কেন দেখতে এলেন না অনেকে বুঝতে পারলাম না। গণমাধ্যমের প্রতি অভিমান ছিল বশির আহমেদের। তবে নিভৃতচারী এই শিল্পী তার গানের মাধ্যমে শ্রোতার হূদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। বেলা ১১টার দিকে উপস্থিত হন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ। এ সময় তিনি বশির আহমেদের পুত্র, কন্যা ও স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেন। এসময় আপেল মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বশির আহমেদের সঙ্গে জনপ্রিয় শিল্পীরা দেখা করতে না আসলেই বা কি এসে যায়। তার তুলনা তিনি নিজেই। নাট্যাভিনেতা শংকর সাঁওজাল বলেন, প্রকৃতির নিয়মেই সবাই একদিন বিদায় নেবে। তবে সৃষ্টিশীল মানুষ চলে যাওয়া খুবই কষ্টদায়ক। দেখতে এসেছিলেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেতা ওমর সানি। তিনি বলেন, বশির ভাইয়ের চলে যাওয়ায় দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। বশির আহমেদকে শেষবারের মতো দেখতে এসেছিলেন তারই ছাত্রী কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। তিনি বলেন, বশির ভাই আমাদের দেখিয়েছেন একজন প্রকৃত শিল্পী কেমন হতে পারে। বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমরা যারা সঙ্গীতের জন্য নিজেদের জীবনটা উত্সর্গ করলাম, দেশের কোন সরকারই আমাদের সেভাবে মূল্যায়ন করেনি। ১৯৩৯ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতা শহরে বশির আহমেদের জন্ম। তার বাবা নাসির আহমেদ এবং মা মোমেনা খাতুন দুইজনেই সঙ্গীতপ্রিয় ছিলেন। উদীচীর শোক বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী, অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গানের গায়ক এবং বাংলাদেশে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সৈনিক বশির আহমেদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গভীর শোক প্রকাশ করেছে। গতকাল এক শোক বার্তায় উদীচীর কেন্দ ীয় সংসদের পক্ষ থেকে সভাপতি কামাল লোহানী ও সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার এ শোক জানান।