গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের সঙ্গে খুলনা মহানগরীতে চলছে খাবার পানির তীব্র সংকট। বাসা-বাড়িতে খাবার পানি নেই, রান্নার পানি নেই, নেই গোসলের পানি। পানির জন্য মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গৃহিণীদের খাবার ও গৃহস্থালির পানি জোগাড় করতেই কেটে যাচ্ছে দিন-রাতের অধিকাংশ সময়। ওয়াসা থেকে সরবরাহকৃত পানি নগরবাসীর অর্ধেক চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।
ওয়াসা বলছে, পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে মধুমতি নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে খুলনা মহানগরীতে স্বাদু পানি আনার যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সে প্রকল্পেরও তেমন কোন অগ্রগতি নেই। সবমিলিয়ে নগরবাসী তীব্র পানির সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, নগরীর অধিকাংশ পুকুর ও জলাধার বন্ধ করে দেয়ার কারণে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে, কয়েক দফা বৃষ্টি হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৪ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। সেখানে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খুলনা ওয়াসা প্রতিদিন সরবরাহ করছে মাত্র ১২ কোটি লিটার। ফলে নগরীর অর্ধেক বাসিন্দাই ওয়াসার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পানির এই সংকট চলছে বছরের পর বছর ধরে।
পানি সংকটের কারণে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ বাসা-বাড়ির মালিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টিউবওয়েল বসিয়ে মেশিনের সাহায্যে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বর্তমানে তা কাজে আসছে না। ফলে অনেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ওয়াসা থেকে ১ হাজার লিটারের ১ ট্যাংকি পানি নিয়ে দৈনন্দিন কাজ সারছেন। তবে জোড়াগেট মোড় পেরিয়ে নগরীর খালিশপুর-দৌলতপুর ও বয়রা এলাকায় ওয়াসার ওই পানি নিতে গেলে প্রতি ট্যাংকি পানির মূল্য ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। দূরত্ব অনুযায়ী এ মূল্য নির্ধারণ করেছে ওয়াসা। যদিও এ মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অনেকের মধ্যে। আবার টাকা দিয়েও অনেকে ওয়াসার ট্যাংকির পানি পাচ্ছেন না। কারণ, পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসার মাত্র ১০টি ট্যাংকি রয়েছে।
পানির সংকট প্রসঙ্গে খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) প্রকৌশলী এম. ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহে পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং অন্যদিকে অনাবৃষ্টির কারণে নগরীতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে এ সংকট কিছুটা কমবে।
এদিকে নগরীর পানির চাহিদা মেটাতে ২০১১ সালের জুন মাসে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী থেকে ৭০০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসিয়ে মোল্লাহাট ও রূপসার সামন্তসেনা হয়ে খুলনা মহানগরীতে ৫টি রিজার্ভার ও ১১টি ওভারহেড ট্যাংকির মাধ্যমে পানি আনার জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করা হয় । ‘খুলনা ওয়াটার সাপ্লাই’ নামে এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। কারণ তিন বছর অতিবাহিত হতে চললেও প্রকল্পের শুধু দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখনো কোন কার্যাদেশ দেয়া হয়নি। প্রকল্পটিতে অর্থায়ণ করছে জাইকা ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এটি বাস্তবায়িত হলে মধুমতি নদী থেকে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে পানির সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
