স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চিকিত্সকরা অহেতুক ধর্মঘটে গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোগী জিম্মি করে অপ্রয়োজনীয় ধর্মঘট কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। গতকাল সোমবার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিত্সা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কথায় কথায় অহেতুক ধর্মঘট ডাকবেন না। ধর্মঘট ডাকার ফলে একজন রোগী মারা গেলে তার দায়িত্ব নেবে কে? সত্যিকার অর্থে যদি আপনি একজন চিকিত্সক হন, তাহলে ধর্মঘট করবেন না। আমি ধর্মঘট সমর্থন করি না। হাসপাতালে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য তিনি চিকিত্সক-রোগীর স্বজনসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সম্প্রতি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) ও মিটফোর্ড হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপর হামলাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজশাহীতে যে রোগীর মৃত্যুর গুজবের কারণে সাংবাদিক ও ইন্টার্নি চিকিত্সকদের মধ্যে ঝামেলা হয় সে রোগী এখনও জীবিত আছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চিকিত্সক সংকট সমাধানে আগামী বছরে সাড়ে ৬ হাজার ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। আমাদের চাহিদা অনেক থাকলেও সম্পদ সীমিত। তাই এই সীমিত সম্পদ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালের উন্নয়ন অবশ্যই করব, কিন্তু কোনো দুর্নীতি সহ্য করব না। কেউ দুর্নীতি করলে আমি অ্যাকশন নেব। কেউ তদবির করবেন না। তদবির করলে সব সুবিধা বন্ধ করে দেব। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ করে যে নৈরাজ্য হয়েছে তা পৃথিবীর কোন দেশে হয়নি। তাদের আন্দোলনের প্রথম টার্গেট ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সে দিনের সাহসী ভূমিকার কারণেই আজ দেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে। একটা গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সংসদ চলছে।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দীন মো. নুরুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
