সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাগরে গোসল করার সময় নিখোঁজ ঢাকার আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র সাব্বির হাসান ও ইসতিয়াক বিন মাহমুদ উদয়ের খোঁজ গত আট দিনেও মেলেনি। তাদের মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সাগরে সপ্তম দিনের মত অনুসন্ধান চালিয়েও লাশের কোন হদিস না পাওয়ায় রবিবার রাতে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় না থেকে সেন্টমার্টিন ত্যাগ করেছেন। টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. হারুন অর রশীদ জানান, সাত দিন ধরে দ্বীপের চারদিকে কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির লোকজন নিখোঁজ শিক্ষার্থী পর্যটকদের লাশের সন্ধানে উদ্ধার তত্পরতা চালিয়েছেন। এছাড়া শাহপরীর দ্বীপ টেকনাফসহ গভীর সাগরেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে অভিযান আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে লাশের সন্ধান পেলে আমরা উদ্ধার করব। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য জেলেদের কাছে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ৩৪ শিক্ষার্থী গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন সেন্টমার্টিনে আনন্দ ভ্রমণে যায়। ওইদিন দুপুর দুইটার দিকে দ্বীপের উত্তর-পূর্ব সমুদ্রে গোসল করার সময় ১০ শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে যায়। এসময় চার ছাত্র নিখোঁজ হয় ও ছয় ছাত্রকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উদ্ধারপ্রাপ্তদের টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিত্সক দুই শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন অংকুর ও মানফেজুল ইসলাম ইভানকে মৃত ঘোষণা করেন। নিখোঁজ চারজনের মধ্যে গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে দ্বীপের পশ্চিম পাশের সৈকতে দুই ঘন্টার ব্যবধানে শাহরিয়ার রহমান নোমান ও গোলাম রহিম বাপ্পীর লাশ পাওয়া যায়।
