মিরপুরে জোড়া খুন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২২
রাজধানীর মিরপুরে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ পীরেরবাগের বটতলায় এই জোড়াখুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জাহাঙ্গীর (২৯) ও কাইয়ুম (৩১)। স্থানীয় এক কিশোরী অপহরণের জের ধরেই ওই দুই যুবক খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীরের মিরপুর-১ নম্বরে একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান রয়েছে। কাইয়ুম চৌদ্দ বছর মালয়েশিয়া থাকার পর দুই বছর আগে দেশে ফেরেন। কাইয়ুম মধ্য পীরেরবাগ আর জাহাঙ্গীর শেওড়াপাড়ায় থাকতেন। গতকাল সোমবার সকালে স্বজনরা লাশ দুটি শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম জানান, রবিবার রাত ৩টার দিকে মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকার লেক ভিউ সোসাইটির কাছে বটতলা থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি মোবাইল, অ্যাপাচি এবং ডিসকভার মডেলের দু’টি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহউদ্দিন বলেন, পীরেরবাগের বটতলা এলাকার ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গত শুক্রবার থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। বটতলা এলাকার রং মিস্ত্রি বিল্লালের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে এলাকার কয়েকজন জানিয়েছেন। কিন্তু কিশোরীর পরিবার তাদের এই অসম প্রেম মেনে নেয়নি। কিশোরীকে খুঁজে না পাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা গত রবিবার রাতে বটতলার গলিতে বিল্লালের বড় বোন পারভীনের বাসায় যান। সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে পারভীনের পরিবারের সদস্যরা কিশোরীর পরিবারের লোকজনকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর দু’টি মোটরসাইকেলে করে ৪ জন যুবক পারভীনের বাসায় যান। তাদের মধ্যে নিহত জাহাঙ্গীর ও কাইয়ুম ছিলেন বলে দাবি ওসির। ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তারা দু’জন খুন হন। তাহলে অন্য দুই যুবক কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তারা দু’জন সুস্থ আছে। তবে তারা কোথায় আছেন তা ওসি বলতে পারেননি। আর পারভীনই বা কোথায় জানতে চাইলে ওসি বলেন, পারভীনের পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছেন। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ কিশোরীকেও এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। ওসি আরও জানান, নিহত জাহাঙ্গীর ও কাইয়ুম ওই কিশোরীর স্বজন। তবে তাদের সম্পর্ক কি তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে ওই কিশোরী বা তার পরিবারের পরিচয় জানাতে চাননি ওসি। পারভীনের প্রতিবেশী নাসরিন জাহান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার পর চিত্কার শুনতে পাই। দু’টি মোটরসাইকেলে করে পারভীনের বাসায় কয়েকজন যান। হইচই শুনে দরজা লাগিয়ে দিই। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ এসে জানায়, বাইরে দু’টি লাশ পড়ে আছে।’ গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে জাহাঙ্গীরের লাশ শনাক্ত করেন তার আত্মীয় (বেয়াই) শহিদুল ইসলাম। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। সে ঢাকার সাভার মডেল থানার পীরগাছা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। নিহত জাহাঙ্গীরের দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। এ পক্ষে তার দুই মেয়ে রয়েছে। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম পুতুল। তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। টেলিফোনে তাহমিনা সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন জাহাঙ্গীর। এ সময় তার স্বামী মেয়েদের খোঁজ নেন। পীরেরবাগ এলাকায় কেন জাহাঙ্গীর গিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে তাহমিনা কিছুই জানেন না। এদিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় স্ত্রী পুতুল। জাহাঙ্গীরের বেয়াই শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পুতুল অন্তঃসত্ত্বা। মৃত্যুর কথা বললে চাপ সইতে পারবে না। তাই তাকে জানানো হয়নি। দুই বছর আগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পুতুলের। পুতুলের বাড়ি বরিশালের কোতোয়ালি থানা এলাকায়। অন্যদিকে কাইয়ুমের লাশ শনাক্ত করেন তার বড় ভাই ফরহাদ হোসেন। নিহত কাইয়ুম মিরপুরের পীরের বাগের ৭৮/৩ নম্বর বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে বাড়িতেই থাকতেন। ফরহাদ জানান, ‘কাইয়ুম সমপ্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। সে ছিল অবিবাহিত। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সে ছিল ষষ্ঠ।’ এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরে বটতলা এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই থমথমে। বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। এলাকাবাসী কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। অনেকে বলেন, তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।