বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির নামে সরকার দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে দেবে না। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে কঠোর অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় এক জরুরি বৈঠকে বসছে। ১৪ দলের মুখপাত্র আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম যে কোন নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে তাতে কোন বাধা দেয়া হবে না; বরং সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটানোর অপচেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে মোকাবেলা করা হবে। বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অতীতে যারা নির্বাচন ইস্যুতে এ ধরনের কর্মসূচি দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল তারাই আবার নতুন করে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ ডেকেছে। এ ব্যাপারে জনগণকেও সতর্ক থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি তাদের মিত্র জামায়াতকে নিয়ে তিস্তা লংমার্চের কর্মসূচি দিয়েছে। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তিস্তা সমস্যা ছিল না? তারা ক্ষমতায় থাকাকালে তিস্তা নিয়ে নিশ্চুপ ছিলেন কেন? তাছাড়া ডালিয়া পয়েন্ট তো ভূমিকম্পে তৈরি হয়নি। এটা এরশাদের আমলে হয়েছিল। মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি গঙ্গার পানির হিস্যা নিয়েও অনেক কথা বলে থাকে। অথচ দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দিল্লী সফর শেষে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গঙ্গার পানির হিস্যার বিষয়টি উত্থাপন করতে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তিস্তা ইস্যুতে লংমার্চ কর্মসূচি করছে। তাদের এ কর্মসূচি তিস্তার পানির জন্য নয়, রাজনীতির জন্য। কারণ যারা লংমার্চ আহ্বান করেছে তারা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল। তখন কেন তারা ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করেনি? মেনন বলেন, তিস্তা কোন নতুন ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক এ নদীর পানির হিস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে মহাজোট সরকারের কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ঢাকা সফরে এসে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধীতার কারণে সে চুক্তি হয়নি। ভারতের চলমান নির্বাচনের পর তিস্তা নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে দেয়া হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানান, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোন বাধা দেয়া হবে না। তবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কেউই রেহাই পাবে না। জানমাল রক্ষার দায়িত্ব যেহেতু সরকারের, তাই কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচারণ করলে সরকার বা আমাদেরকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য নয়, বিএনপির নেত্রী রাজনীতি করার জন্য লংমার্চ করছেন। কারণ ভারতে এখন নির্বাচন হচ্ছে; ঠিক এই সময়ে বৈশাখের দাবদাহে নিজে বাড়িতে এসির মধ্যে বসে থেকে জনগণকে কষ্ট দিয়ে লংমার্চ কতটুকু পানির জন্য, সেটা ভাবতে হবে।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানান, বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা এখন জনগণকে কষ্ট দিতে ষড়যন্ত্রের নতুন কৌশল খুঁজছে। তবে কেউ যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার ও আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোর হস্তে দমন করবে।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, লংমার্চের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর এর সব দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে। কারণ তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির আভাস পাওয়া গেছে। বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। নইলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন।
