প্রতিনিয়ত লোকসানের কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের অধিকাংশ সিনেমা হল। কোন কোন হল ভেঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে মার্কেট, শপিংমল ও গোডাউন। এতে বেকার হয়ে গেছেন এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীরা। এদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেককে রিক্সা-ভ্যান ও অটোরিক্সা চালাতেও দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ১৯টি সিনেমা হলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩টি চালু রয়েছে। বাকি ১৬টি সিনেমা হলই লোকসানের ভারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদরের বস্তান সিনেমা হল ভেঙ্গে গড়ে উঠেছে চাল বাজার, লিলি সিনেমা হল ভেঙ্গে গড়ে উঠে বাটা বাজার মার্কেট, ফকিরপাড়া জুয়েল সিনেমা হল ভেঙ্গে গড়ে উঠেছে আবাসিক বাড়ি। সদ্য বন্ধ হয়ে গেছে চৌরঙ্গী সিনেমা হল, একমাত্র চালু রয়েছে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত মর্ডান সিনেমা হল।
বীরগঞ্জ উপজেলায় ২টি সিনেমা হলের মধ্যে একটি বন্ধ ও উল্লাস নামে একটি সিনেমা হল চালু রয়েছে। ফুলবাড়ী উপলোর ৩টির মধ্যে উর্বশী নামের একটি চালু রয়েছে। হাকিমপুর উপজেলার একমাত্র সিনেমা হল হিরামতি এখন ব্যবসায়ীদের গোডাউন। এছাড়া পার্বতীপুর উপজেলার আশা টকিজ ও মধুমতি সিনেমা হল এবং কাহারোল, বোচাগঞ্জ, খানসামা ও বিরামপুর উপজেলায় একটি করে সিনেমা হল থাকলেও সেগুলো এখন বন্ধ।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হল মালিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, নিম্নমানের ছবি, ছবির ভিতর কাটপিসের নামে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন, ডিশ লাইনের কারণে বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত ছবি প্রদর্শন, ভারতীয় চ্যানেলের আগ্রাসন ও ভিডিও পাইরেসিসহ নানা কারণে সিনেমা হলগুলো দর্শক হারিয়েছে। এভাবে যদি হলগুলো বন্ধ হতে থাকে তাহলে এই শিল্পের সাথে জড়িতরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য।
