বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র দেখতে চায় যুক্তরাজ্য

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৪
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেছেন, এদেশে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। এজন্য স্বাধীন গণমাধ্যম, পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধী দল এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা খুবই জরুরি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব এ দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চেয়েছিল। কিন্তু সেটা না হওয়ায় অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে গতকাল সোমবার দুপুরে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সমপ্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় বিরোধী দল খুবই জরুরি। নির্বাচনের পর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের সমপর্ক কিভাবে আরো গভীর করা যায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গিবসন বলেন, সামপ্রতিককালে কিছু লোক স্টুডেন্ট ভিসায় ব্রিটেন গিয়ে পড়ালেখা বাদ দিয়ে লো স্কিল জবে যুক্ত হচ্ছে। তারা স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার করছে। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সমপর্ক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালান ডানকানের সামপ্রতিক ঢাকা সফর প্রসঙ্গও গুরুত্বের সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন। গিবসন ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রির সংকট প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবহিত। ব্রিটিশ সরকার কারি ইন্ডাস্ট্রির সংকট কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। তিনি ব্রিটেনের সাথে সিলেটের ঐতিহাসিক সমপর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। প্রবাসীদের সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সিলেট সফর করছেন বলে জানান হাইকমিশনার। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর গিবসন গতকাল প্রথম সিলেটে আসেন। এসময় মেয়র আরিফুল বলেন, প্রবাসীদের বিষয়ে সিটি করপোরেশন খুবই আন্তরিক। প্রবাসীদের সমস্যা নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শিগগিরই একটি ওয়েব সাইট খোলা হবে। প্রবাসীরা যাতে এখানে নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ করতে পারেন-সে ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।