এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন

শহরের মধ্যে ছোট্ট শহর

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৫৮
শিক্ষা, উত্সাহ ও ক্ষমতায়ন— এই তিনটি প্রতিপাদ্যকে ভিত্তি করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পথচলা। এই পথচলা মেয়েদের অগ্রযাত্রাকে আরো সামনে নিয়ে যাবে। সারা বিশ্বের মেয়েদের পাশাপাশি বাংলাদেশের মেয়েরাও এই অগ্রযাত্রায় আছে বন্দরনগরীর দামপাড়া। এই এলাকার এমএম আলী রোড। এখানেই ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন। বিল গেটস ফাউন্ডেশন, আমেরিকা, আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইতালী, জাপান, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের সহায়তায় হয়েছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাহিমা আজিজ বলেন, নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লেখাপড়ার ধরন বিশ্বমানের। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, শিক্ষার্থীরা স্বাধীন। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি এরা সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস ছোট হলেও আমরা অতি শিগগিরই নতুন ক্যাম্পাসে যাবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫০১ জন ছাত্রী লেখাপড়া করছেন। ৫০১ জন ছাত্রীর মধ্যে বাংলাদেশের রয়েছে ২৩৪ জন। বাকি ২৬৭ জনের মধ্যে ভারতের ২৯ জন, মায়ানমারের ৯ জন, ভুটানের ২৫ জন, নেপালের ৪৪ জন, পাকিস্তানের ২৬ জন, আফগানিস্তানের ৪৬ জন, চীনের ৬ জন, কম্বোডিয়ার ৭ জন, ভিয়েতনামের ৩৪ জন, শ্রীলংকার ৩০ জন, ফিলিস্তিনের ৫ জন, কানাডার ১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ২ জন, মালয়েশিয়ার ১ জন ও সিরিয়ার ২ জন ছাত্রী রয়েছেন। নারীদের নেতৃত্ব বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, শ্রীলঙ্কার তামিল ও সিংহলীদের সাথে মৈত্রী স্থাপন, আফগানিস্তানের ছেলে ও মেয়েদের সাথে যৌন নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত বিষয়ে সামগ্রিক আলোচনা, মায়ের সন্তান জন্মদান সংক্রান্ত বিষয়ে সামগ্রিক গবেষণা এর অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বের অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পড়ছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আফগানিস্তান থেকে আসা হাকিমা মেহেনা বলেন, আমি সবসময় বাইরের দেশে পড়ার আগ্রহ পোষণ করেছি। মেয়েদের জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। যা অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। তাই আমি অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পছন্দ করেছি। বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে আপন হয়ে উঠেছে ডেচান জানগমো। ভুটানের বংশদ্ভূত এই মেয়ে বলেন, প্রথম প্রথম বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে সব মানিয়ে নিলাম। এই দেশের সংস্কৃতি অনেক মনোরম। যা হয়তো এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না। পরিচয় হয় ভিয়েতনাম থেকে আসা লোয়ান বুইয়ের সঙ্গে। নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। আমাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এখানে সবই রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সব কিছু আমরা এখান থেকে পেয়ে থাকি। আমাদের এই ক্যাম্পাসকে বলা যেতে পারে শহরের মধ্যে আরো একটি ছোট্ট শহর। এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে পড়াশোনা করছেন। লেখাপড়ার বাইরে অবসরে এখানকার শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্লাব নিয়ে। তাদের জন্য রয়েছে পাবলিক হেলথ লিডারশিপ ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, মডেল ইউএন অ্যান্ড লিডারশিপ ক্লাব, গিটার ক্লাব ও ড্রামা ক্লাব। ক্রীড়ায় রয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস। পাশাপাশি আরো রয়েছে, কারাতে, আর্ট, যোগব্যায়াম। প্রায় বছরজুড়েই চলতে থাকে এসব ক্লাবের কার্যক্রম। শিক্ষা, উত্সাহ ও ক্ষমতায়ন— এই তিনটি প্রতিপাদ্যকে ভিত্তি করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পথচলা। এই পথচলা মেয়েদের অগ্রযাত্রাকে আরো সামনে নিয়ে যাবে। সারা বিশ্বের মেয়েদের পাশাপাশি বাংলাদেশের মেয়েরাও এই অগ্রযাত্রায় আছে। বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হোক নারীর ক্ষমতায়ন। জেগে উঠুক নারী শিক্ষার আলোয় উজ্জীবিত হয়ে। উত্সাহ-উদ্দীপনায় রাঙ্গিয়ে তুলুক নিজেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন এগিয়ে যাওয়াকে স্বাগত জানাই আমরা। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান