নামের সাথে কাজটার পুরোই মিল আছে। তা হচ্ছে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে দু’টো পায়ের খেলা। যন্ত্রের শব্দ, গান বা কবিতার সাথে পায়ে ঘুঙুর বেঁধে হাত ও পায়ের অসাধারণ নৈপুণ্য। কাজটা মোটেও সহজ নয়। আর এটা যদি হয় ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথা বলার বয়সের সময় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ঠিক এমনই কঠিন কাজকে মাত্র তিন বছর বয়সে আয়ত্ত করতে শুরু করেছিলেন মাহফুজা মনি পুতুল। একেবারে পুতুল নাচ। ছোটবেলার পুতুলের নাচ আজ আর ছোট নেই। অনন্য নাচের কৌশলের ফলে পুতুল তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ক্যাম্পাসে প্রোগ্রাম হলেই পুতুলে নাচ থাকা চাই। এ প্রসঙ্গে তার সহপাঠী সাব্রিনা আহমেদ জানান, ‘আমরা যে কোনো অনুষ্ঠানে হোক সেটা ঘরোয়া বা মঞ্চে পুতুলের নাচ দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে থাকি। ওর নাচ ছাড়া যেন অনুষ্ঠান জমেই না।’
নাচের হাতেখড়ি খালা আর মামার হাতে। আর নিজের অদম্য ইচ্ছার কারণে পুতুল আয়ত্ত করতে পেরেছে নাচের কঠিন সব কলাকৌশল। নাচ শেখার বিষয়ে পুতুল জানান, ‘বাড়ি থেকে নাচ শেখার বিষয়ে খুব একটা সমর্থন পাইনি। তাই আমি চুপি চুপি টেলিভিশনে নাচ দেখে দেখে বাসায় চর্চা করতাম। আর সব সংশয়কে পেছনে ফেলে যে কোনো অনুষ্ঠানে বন্ধুদের সাথে নাচতাম।’ তার পর থেকেই তিনি নাচে বেশ জনপ্রিয়। পুতুল ক্ল্যাসিক্যাল নাচটাই বেশি ভালোবাসেন। আর তাই নাচতে আসা নতুনদের উদ্দেশ্যে পুতুল, ‘আসলে নিজেকে খুব বেশি উচ্ছৃঙ্খল করা কখনোই ঠিক হবে না। যে যে নাচই করুক না কেন তিনি যেন কখনোই আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে না যান।’ এই ইট-পাথরের শহরের বেড়ে ওঠা পুতুল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। জন্ম থেকে ঢাকা শহরের বেড়ে ওঠার দরুণ গ্রামের সবুজ প্রকৃতির টানে ছুটে যান বিভিন্ন এলাকায়। অবসরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, গান আর বই নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। একটু বেশি সময় পেলেই মাঠের সবুজ ঘাসের ওপর প্রাকৃতিক শব্দের সাথে নিজের পায়ের ছন্দ মেলাতে চেষ্টা করেন পুতুল।
