চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চ শিক্ষায় স্বপ্ন দেখায়

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০০
প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভর্তি হয় পিয়া। তার ইচ্ছা স্নাতক শেষ করে বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা নেয়া আর অর্জিত জ্ঞানকে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে সে দেখতে পায়, পাস করার পর অনেক বড় আপু, ভাইয়ারা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাদের দেখে তার স্বপ্নটি যেন ডালপালা মেলে আরো বিস্তৃত হতে থাকে; কিন্তু সবেমাত্র প্রথমবর্ষ, তাই মনের মাঝে ছিল অনেক প্রশ্ন, অভাববোধ করছিল একটা সঠিক দিকনির্দেশনার। পিয়ার মতো একই রকম সমস্যায় আছে কাকন, ইনতিশার, নিশি ছাড়া আরো অনেকে। পিয়াদের মতো চুয়েটের অনেক কৌতূহলী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথ প্রদর্শক হিসেবে ১ মার্চ ২০১২ থেকে যাত্রা শুরু করে ‘চুয়েট হায়ার স্টাডি সোসাইটি’। প্রবাসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষায় অর্থাত্ স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডিতে অধ্যয়নরত চুয়েটের একদল স্বপ্নবাজ মেধাবী দ্বারা সৃষ্টি এই সোসাইটি। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে ঋষিকেষ গুপ্ত (কানাডা), মো. তৈয়ুবুর রহমান ও রাগিব আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র), রাশিদুল হাসান ও দেবযানী ঘোষ (জার্মানী), আহসানুল হাবীব (অস্ট্রেলিয়া), খিজির মাহমুদ (চীন), মোস্তাফিজুর রহমান (সিঙ্গাপুর), নাহিয়ান জ্যোতিসহ (দক্ষিণ কোরিয়া) প্রমুখ কাজ করে চলছেন নিরন্তরভাবে। কেন এই সোসাইটি গড়লেন জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রতি বছর অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন আশা নিয়ে বহু শিক্ষার্থী ভর্তি হন চুয়েটে। তাদের মনে থাকে উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কিত অনেক অজানা প্রশ্ন ও কৌতূহল। সময়ের সাথে সাথে সেই স্বপ্ন যেন ফিকে হতে থাকে সিলেবাসের পড়াশুনা আর যান্ত্রিক জীবনের চাপে। দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা তবু বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকে প্রিয় দেশকে কিছু ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের খানিকটা সহযোগিতা করতেই এই সংগঠনের সৃষ্টি। সংগঠনটির কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জামার্নীতে বসবাসরত রাশিদুল হাসান বলেন, আমরা এই সংগঠনটিকে তিন স্তরে ভাগ করেছি। প্রথম স্তর আমরা যারা উচ্চ শিক্ষায় প্রবাসে বসবাসরত, দ্বিতীয় স্তর যারা স্নাতক সম্পূর্ণ করেছে এবং উচ্চ শিক্ষার চেষ্টা করছে, তৃতীয় স্তরে রয়েছে চুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীরা। সংগঠনটির দ্বিতীয় স্তরে কাজ করছেন মেহদী মাসুদ ও অর্নব চীেধুরী (প্রভাষক, চুয়েট) এবং সায়েদুল মোরসালিন (প্রভাষক, ইউবি)। তৃতীয় স্তরের সভাপতি অর্নব পাল ও সাধারণ সম্পাদক দুর্জয় বৈদ্য। এই তিন স্তর নিয়ে আমরা গড়ে তুলেছি অনলাইন ভিত্তিক একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। যেই নেটওয়ার্কটি শিক্ষার্থীদের কৌতূহল মেটাতে সর্বদাই প্রস্তুত। সিঙ্গাপুরে বসবাসরত আরেক প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, সংগঠনটির প্রধান কার্যক্রম হলো বিদেশে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন সেমিনার করা। এ লক্ষ্যে আমরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে চুয়েটে একটি সেমিনার করি। বিভিন্ন তথ্যমূলক প্রবন্ধ লিখে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল মেটাতে বদ্ধপরিকর আমরা। কোন দেশে কোন বিষয়ে স্কলারশিপ ভালো পাওয়া যায়, কোন দেশে কি বিষয়ে গবেষণা করা ভালো, কোন দেশে উচ্চ শিক্ষা পরবর্তী চাকরির সুযোগ-সুবিধা বেশি এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। প্রতিমাসে আমরা একটি অনলাইন সেমিনার আয়োজন করার চেষ্টা করি যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী চুয়েটিয়ানরা সরাসরি বক্তব্য রাখেন এবং প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের তথ্যমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং মাসে একটি করে উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক দেয়ালিকা বের করার কাজও প্রক্রিয়াধীন রযেছে। আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় বাইরে পড়তে এসেছে প্রায় অর্ধশত চুয়েটিয়ান। উচ্চ শিক্ষা যে শুধু স্নাতক পর্যায়ের ফলাফলের উপর নির্ভর নয়, তা উল্লেখ করে চীনে বসবাসরত খিজির মাহমুদ বলেন, এটি একটি প্যাকেজের মতো। উচ্চ শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার কোন বিষয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা, প্রবাসী অধ্যাপকের সহযোগিতা, গবেষণাপত্র কিংবা গবেষণা করার অভিজ্ঞতা, অনুরোধপত্র প্রভৃতির উপর।