শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কৃষাণ টাওয়ারের গল্প

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:০০
১৯৭৯ সাল। জাঁকজমকভাবে মিলতো কৃষিমেলা। কৃষি মেলাকে কেন্দ্র করে একটি টাওয়ার স্থাপন করা হয়। নাম দেওয়া হয় কৃষাণ টাওয়ার। টাওয়ার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য জানা না থাকলেও কালের চক্রাকারে এর সৌন্দার্য বাড়তে থাকলে বাড়তে থাকে পরিচিতি। সময় পেরিয়ে এটি রূপ নেয় দেশের একটি ব্যতিক্রম নিদর্শনে। এর সৌন্দার্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতে থাকে। টাওয়ারকে ঘিরে জমে ওঠে আড্ডা আর আনন্দের মিছিল। মিশে যায় জীবনের গল্পে। প্রতিদিনের হাসি-ঠাট্টার গল্পে হতে থাকে নিরব সাক্ষী। বলছিলাম রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত দেশের একমাত্র কৃষাণ টাওয়ারের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই একটি স্থাপত্য সকলের চোখ কেড়ে নেয়। ছায়া সুনিবিড় সবুজের আড়াল থেকে হাতছানি দিয়ে সবাইকে স্বাগত জানায়। ছায়া আর সোন্দার্যে স্থাপত্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসের হূদপিণ্ড, অক্সিজেন সিলিন্ডার, এমনকি ক্যাম্পাসের একমাত্র নিদর্শন নামে পরিচিত। শুধু ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও পরিচিত দাঁড়িয়ে থাকা মেরুদণ্ডবিহীন সুউচ্চ এই স্থাপত্য। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে কেউ প্রশ্ন করার আগেই সবার প্রথম উত্তরে জানিয়ে দেয় এটা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সকলের কাছে তুলে ধরার একমাত্র মঞ্চ কৃষাণ টাওয়ারটি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ‘লাভ টাওয়ার’ নামে পরিচিত। এর পূর্বে ‘জাপানীজ টাওয়ার’ নামেও পরিচিত ছিল। কথিত ‘লাভ টাওয়ার’ নামকরণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যুগে যুগে ভালোবাসার সাক্ষী এই নিদর্শনটি। পছন্দের মানুষের সাথে প্রথম দেখা এবং শেষ দেখা সবই মিলে টাওয়ারকে ঘিরে। জমে ওঠে প্রতিদিনের আড্ডা আর আনন্দ। ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের সময়টিও কাটে এখানে। গবেষণার মাঠের কাজের ফাঁকে ক্লান্ত শরীরকে একটু সস্তি দিতে সবাই দৌঁড়ে আসেন টাওয়ারের নিচে। সহজেই বোঝা যাচ্ছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক নাটক, সিনেমার শুটিংও চলে টাওয়ারটিকে ঘিরে। চলে জন্মদিনের কেক কাটা। চলে নানা পিকনিকের আয়োজন। গণমাধ্যমে টাওয়ারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র পরিচিতি মঞ্চ। শিক্ষার্থী তুষিকা, অনিকা ও মুরশেদ জানান, টাওয়ারটি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের হূদপিণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের স্মৃতির সাথে মিশে আছে এই টাওয়ারটি। কোন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখতে পাই টাওয়ারটি আর নেই, এই খবরটি হবে বয়ে যাওয়া জীবনের এক কাল বৈশাখী ঝড়। রূপ নিবে একটি ট্রাজেডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালে টাওয়ারটি সংস্কার এবং উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এছাড়া উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ওখানে একটি ওয়াটার গার্ডেন করার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে এ উদ্যোগ গতিশীলতা হারায়। ছবি: আশিক মাহামুদ