বয়স মাত্র ১০ বছর। বসবাস আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে। আর পড়ালেখা কানসাস শহরের মন্টোসরি স্কুলে। কিন্তু স্কুলে পড়ুয়া এই ছোট্ট মেয়েটি সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে। একটি অণুর গঠন প্রকৃতি আবিষ্কার করে রীতিমত মাথা বিগড়ে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের। আর এই অবাক করা বিস্ময়কর বালিকার নাম ক্লারা ল্যাজেন। ক্লারা আবিষ্কৃত সেই অণুর নাম দেয়া হয়েছে টেট্রানাইট্রো-অক্সিকার্বন। যেখানে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত হবে এই অণু। এটি শুধু এক ধ্বংসকারী বিস্ফোরক সৃষ্টিতেই সক্ষম নয়, বরং বিদ্যুত্ বা তার বিকল্প শক্তি উত্পাদনেও সক্ষম হবে। ক্লারা তার ক্লাস রুমে বসে বসেই নতুন অণুর গঠন প্রকৃতির কাঠামো উদ্ভাবন করেছে। পরে সে তার শ্রেণি শিক্ষক ক্যানেথ বোরকে তার আবিষ্কারের কথা জানালে ক্যানেথ ভদ্রলোক একেবারে দ্বিধায় পড়ে যান। তিনি সব সংশয় ভুলে মেনে নেন যে, ক্লারা যা বলতে চাইছে বা সত্যিই নতুন যা কিছু উদ্ভাবন করেছে তা তার বোঝার মতো জ্ঞান নেই। পরে ক্যানেথ বোর ক্লারার আবিষ্কারের ছবি তুলে তার এক রসায়নবিদ বন্ধুর কাছে পাঠান তার মতামতের জন্য। বিশেষজ্ঞ সেই বন্ধুটি বিস্ময়ে থ হয়ে যান ক্লারার প্রতিভার পরিচয় পেয়ে। তিনি প্রথম বুঝতে পারেন যে, বয়স যাই হোক ক্লারা অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের মতোই নতুন কিছু আবিষ্কারে সফল হয়েছে। আমেরিকার হামবোল্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট জুয়েলনার বলেন, ক্লারার আবিষ্কার বিস্ফোরক ও শক্তি উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখবে। আমেরিকার সামরিক বিভাগ থেকে ক্লারা ল্যাজেনের অণুর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, কী পরিমাণ মূল্য পেলে সে তার আবিষ্কারের স্বত্ব সামরিক বিভাগে হস্তান্তর করবে বা করতে ইচ্ছুক কি না, তাও জানতে চেয়েছে।
