সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছে তাসানা শাহরিন হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদগুলোর মধ্যে তার প্রথম পছন্দ বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ। তাসানার মতো এরকম ৩৮ জন মেধাবীমুখ নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করলো নতুন অনুষদ বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি কিংবা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং আলাদা আলাদা করে পড়ানো হয় অথবা একসঙ্গেই কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়।
নতুন অনুষদে ভর্তির মাধ্যমে ৩৮ জন তরুণপ্রাণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এ তরুণপ্রাণ প্রথমদিন এসেই ভাল বন্ধু হয়ে যায়। ময়মনসিংহের ছেলে শুভাশীষ চন্দ্র বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। আমার কাছে মনে হয় খুবই ভাল ও চ্যালেঞ্জিং বিষয় এটি। শুভাশীষের আনন্দের সাথী হয় সানিয়া রাইসা সুমনা, জেসমিন বেগম, নওশীন আনিকা খানসহ আরো অনেকে। ক্যাম্পাস নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত মনিরুজ্জামান। তার কথায়-ছোট্ট ছিমছাম ক্যাম্পাসটি অনেক সুন্দর। আশপাশের টিলা আর পাহাড়গুলো যেন সবুজের আবেশে জড়িয়ে রাখে। অনুষদ নিয়ে অনেক স্বপ্ন তাদের। সাদিয়া মাহজাবিন আন্নি বলেন, নরম কাদাকে যেভাবে মনেরমতো আকৃতি দেয়া হয়। আমরা ঠিক আমাদের অনুষদকে মনের মতো গড়ে তুলবো। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে খুব গর্ব হয় মুস্তাকিম বিল্লাহ, আবীর রায়হান, আফরোজা কবীর লাকী, শাহ রোখসানা আক্তার ঊর্মীসহ আরো অনেকের। নতুন অনুষদকে তারা নতুন পরিবার মনে করেন।
ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে সবাই একটু নড়েচড়ে বসে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল প্রকৌশলী হওয়ার। এর মধ্যে একজন নীলফামারীর ছেলে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, জিন প্রকৌশল ও কৃষিকে একসাথে করে আমরা বাংলাদেশকে খুব ভাল কিছু দেয়ার প্রত্যাশা করি। তার সাথে সুর মেলান নওগাঁর মেয়ে আদুর বানু। আদুর বলেন, আমি শত মাইল দূর থেকে সিলেট এসেছি শুধু মাত্র এ বিষয়টির প্রতি আমার দুর্বলতা আছে বলে। ফয়েজ আহমেদ সৈকত ও প্রজ্ঞা পারমিতা ঘোষ কথা টেনে নিয়ে বলেন, দেশের জন্য কিছু একটা করতে চাই।
বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ৫টি ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছে। এগুলো হলো মলিকুলার বায়োলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, প্ল্যান্ট এন্ড এনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি, অ্যানিমেল এন্ড ফিস বায়োটেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যালস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি এবং মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলজি। চার বছর মেয়াদী এ অনার্স কোর্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট সহায়ক হিসেবে পাঠদান করবে। প্রথম ব্যাচটি বেরিয়ে পড়ার আগেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্স কোর্স চালুরও একটি সুপারিশ রয়েছে বলে জানা যায় ।
