অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে আগামী ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গত বাজেটে এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে সংগঠনের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া এ দাবি জানান।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেটে। তবে ২০১৩ সালে সহিংসতা রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আবাসন খাত এ সুযোগ নিতে পারেনি। তাই আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ সুযোগ দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
অবশ্য অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগেনি বলে এ খাতের ব্যবসায়ীদের স্মরণ করিয়ে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে উপকৃত করতে এ খাতে এ সুযোগ দিয়েছিলাম। যাতে সাধারণ মানুষও একটি ছোট বাড়ির মালিক হতে পারে। কিন্তু এ সুযোগে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। কেন এ ফল পাওয়া যায়নি তা গবেষণার বিষয়।
আগামী জুনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী সংসদে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শমূলক আলোচনার অংশ হিসেবে প্রাক বাজেট আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। এরই অংশ হিসেবে গতকাল দুই দফায় আবাসন খাতের প্রতিনিধি ও নির্মাণ শিল্পের (ইট, বালু, সিমেন্ট, লোহা, স্যানিটারি, সিরামিকস ও হার্ডওয়্যার) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে এনবিআর।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জমি রেজিস্ট্রেশনের ফি ও কর হ্রাস করা প্রস্তাব করে বলা হয়, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় উচ্চ থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে এ খাত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।
এছাড়া আবাসন শিল্পের জন্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি কর নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি মার্কেট চালু করা, গৃহায়ণ ও নির্মাণশিল্পে ব্যবহূত বিভিন্ন রিকন্ডিশনড যন্ত্রপাতি, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
এ সময় এনবিআরের বাজেট সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
