আজ ঐতিহাসিক ২৩ এপ্রিল। নেত্রকোনায় পাক-হানাদার প্রতিরোধ দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে নেত্রকোনায় পাক-হানাদারদের বিমান হামলার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল নেত্রকোনার বীর সন্তানরা। ঐদিন সকাল ৯টা বাজতেই পাক-হানাদার বাহিনীর দুটি সুপার সনিক জেট ফাইটার নেত্রকোনার আকাশে ঢুকে পড়ে এবং শহর ও গ্রামের লোকদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। তাত্ক্ষণিকভাবে শহরের লোকজন আতংকিত হয়ে পড়লেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আত্মরক্ষায় সচেষ্ট হয় এবং পাকবাহিনীর যুদ্ধ বিমানকে লক্ষ্য করে বন্দুক দিয়ে পাল্টা গুলি ছুঁড়তে থাকে। নেত্রকোনাবাসীর পাল্টা আক্রমণের মুখে পাক-হানাদারদের বিমান দুটি চলে যায়। পাক-বৈমানিকরা ভাবতেই পারেনি যে, সেখানে এতটা প্রতিরোধের মুখে তারা পড়বে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পরপরই নেত্রকোনার তত্কালীন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুজ্জোহা, কলেজের সাবেক জিএস ও বর্তমান নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মতিয়র রহমান খান, ছাত্রলীগ নেতা গোলাম এরশাদুর রহমান, ছাত্রলীগ সম্পাদক হায়দার জাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীবাহিনী একত্রিত হয়ে নেত্রকোনার অস্ত্রাগার থেকে থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ১৫০টি মার্ক রাইফেল এবং ৭২ হাজার গুলি সংগ্রহ করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ শুরু করে। নেত্রকোনায় অস্ত্র লু্ণ্ঠনের খবর পাক গোয়েন্দারা পাবার পরপরই ২৩ এপ্রিল সেখানে পাকবাহিনী বিমান হামলা চালায় এবং প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। নেত্রকোনার জনগণ প্রতিবছর এই দিনটি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, আয়োজন করা হয় স্মরণসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের।
