সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা চায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫২
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ দমন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেশি দেশ ভারত, মায়ানমার, আফগানিস্তানসহ ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রবল। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ভারসাম্যমূলক নিরাপত্তা নীতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিমত ব্যক্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টার-ন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস্) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপত্তা সংলাপে দেশটির প্রতিনিধি দল এই অভিমত জানায়। এদিকে এই সংলাপে বাংলাদেশ পক্ষ শান্তি মিশন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমুদ্র নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে। দু’দেশের এই নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশ ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব মুস্তাফা কামাল। আর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সেদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর মুখ্য উপ-সহকারী মন্ত্রী টম ক্যালি। সংলাপ শেষে বিকেলে বিস্ মিলনায়তনে তারা সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক) অতুল কেশাপ, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান ও সাইদা মুনা তাসনিম। ব্রিফিংয়ে মুস্তাফা কামাল সদ্যসমাপ্ত নিরাপত্তা সংলাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দাবি করে বলেন, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সংলাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবারের সংলাপে সুনির্দিষ্ট কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কৌশলগত অগ্রাধিকার, সামরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তি মিশন ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন ও দুর্যোগ মোকাবিলা-এই চারটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা সহযোগিতা দু’দেশের সম্পর্ককে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরসহ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোন উদ্বেগ নেই। তবে সার্বিকভাবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে চায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, পরমাণু নিরাপত্তা ইস্যুতে সংলাপে আলোচনা হলেও রূপপুর বা অন্য কোন বিদ্যুত্ প্রকল্প নিয়ে কথা হয়নি। তবে এই ইস্যুতে মার্কিন উদ্বেগ থাকায় আমরা যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি তা তাদের জানিয়েছি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা টম ক্যালি বলেন, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে সমন্বিত কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা। এই কার্যক্রমে বাংলাদেশকে পাশে দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল ও অবাধ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে আর্থিক কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ দমন নীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে। নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অর্থছাড় করার সময় মার্কিন কংগ্রেসে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির প্রশ্ন উঠে। এ পর্যায়ে তিনি এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শান্তি মিশন পরিচালনায় বিভিন্ন সরঞ্জাম সহায়তা দেয়া হবে। গত বছর নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আড়াই মিলিয়ন ডলার মার্কিন সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার নৌ-সহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে টম ক্যালি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্র সম্মান করে। কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তার দেশের কোনো সমস্যা নেই।