সমীক্ষা মতে, একক গরিষ্ঠতা পেতে পারে এনডিএ। বিজেপিও দাবি করছে তারাই হবে বৃহত্তম দল, এনডিএ সরকার গঠন করবে। কিন্তু যদি না হয়? সরকার গঠনে নতুন জোট বা সঙ্গীর প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বহু আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলই এনডিএ জোটে না আসতে চাইতে পারে। এ ক্ষেত্রে উদার নেতা হিসেবে রাজনাথ সিং গ্রহণযোগ্য হতে পারেন। তাই এনডিএ সুকৌশলে দলের বিকল্প নেতা হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি এবং উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে।
মোদীর মত রাজনাথও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচার করছেন। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে। নিজের জেতা আসন মুসলিম প্রভাবিত উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ ছেড়ে বিজেপি’র সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর কেন্দ্র লখনৌ থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন মুসলিম নেতাদের সঙ্গে। গুজরাট দাঙ্গার জন্য মোদী কোনোভাবেই ক্ষমা চাইতে রাজি না হলেও তিনি বলেছেন, তার দলের যে কোনো ভুলের জন্য তিনি ক্ষমা চাইতে রাজি আছেন। লখনৌয়ের শিয়া মসজিদের মোতওয়ালি জমির আহমেদ খান বলেছেন, রাজনাথ এখানকার লোক। মোদী বহিরাগত। আমরা চাইবো তিনি জিতুন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।
নিজের রাজ্য গুজরাটের ভাদোদারার পাশাপাশি বেনারস থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নরেন্দ্র মোদী। তবে লালকৃষ্ণ আদভানি, সুষমা স্বরাজসহ বিজেপি’র অনেক প্রবীণ নেতাই চান না মোদীর নেতৃত্বে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাক। কারণ মোদী ইতিমধ্যে প্রবীণ নেতা মুরলী মনোহর যোশীকে তার জেতা বেনারস কেন্দ্র থেকে হটিয়ে নিজে প্রার্থী হয়েছেন। যোশীকে প্রার্থী করা হয়েছে কঠিন কানপুর আসন থেকে। দলে তারুণ্য আনতে বহু প্রবীণ নেতাকে প্রার্থী করেননি মোদী। দার্জিলিংয়ের এমপি যশবন্ত সিং টিকিট না পেয়ে ক্ষোভে রাজস্থান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। লালকৃষ্ণ আদভানিকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে গুজরাটের গান্ধীনগরে প্রার্থী করে।
এমনকি সরকার গঠনের আগেই শরিক দলগুলোকেও কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন মোদী। অন্ধ্র প্রদেশে জোট শরিক তেলেগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে রোড শো করতে রাজি হননি। ক্ষোভে জোট ভাঙ্গতে উদ্যত হয়েছিলেন চন্দ্রবাবু। কয়েকদিন আগে মোদী তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে জোটে টানতে প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু জয়ললিতার মন গলাতে পারেননি। বেনারসের মুসলিম মন পেতেও ব্যর্থ মোদী।
পক্ষান্তরে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন রাজনাথ সিং। মুসলিমদের কাছে তিনি তুলনামূলক পছন্দের। বিজেপি’র সভাপতি হওয়ার কারণে সব রাজ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এনডিএ-র শরিক দলগুলোর কাছেও গ্রহণীয়। মহারাষ্ট্রে বিজেপি’র শরিক দল শিবসেনা ভেঙ্গে হয়েছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা। দুই দলের দ্বন্দ্ব মিটিয়েছেন তিনি। কর্নাটকে দুর্নীতির দায়ে বিতাড়িত করা হয়েছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী য়েদুরাপ্পাকে। ১০ মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে হেরে যায় বিজেপি। দলের স্বার্থে য়েদুরাপ্পাকে ফিরিয়ে এনেছেন রাজনাথ। সবচেয়ে বড় কথা, গোরখপুর কলেজের ফিজিক্সের অধ্যাপক ছাত্র পড়ানোর মত রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অন্যদের নিজের পক্ষে আনতে দক্ষ। পাশাপাশি বাজপেয়ী সরকারের আমলে মন্ত্রীও ছিলেন।
ফলে নিঃশব্দে হলেও বিজেপি’র অন্দরমহলের মতই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক বাতাবরণেও। এনডিএ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নতুন শরিক পেতে কি রাজনাথ হবেন মোদীর বিকল্প? বিনয়ী রাজনাথ অবশ্য বার বার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলছেন, বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার মোদীই।
