রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সক ও সাংবাদিকদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনাকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও চিকিত্সকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে অচিরেই তথ্য কেন্দ্র খোলা হবে। এই তথ্য কেন্দ্র থেকে সাংবাদিকরা যে কোন ঘটনার ব্যাপারে তথ্য পাবেন।
গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সংবাদ সংস্থার সম্পাদক, সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক এবং চিকিত্সকদের সংগঠন বিএমএ’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একজন রোগীর মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রবিবার রাতে চিকিত্সক ও সাংবাদিকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে চিকিত্সক ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধি রয়েছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের পর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির আর কোন কার্যকারিতা থাকবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের সরকারি খরচে চিকিত্সা দেয়া হবে। এছাড়া ঘটনার সময় সাংবাদিকদের ভাংচুর ও ছিনতাই হওয়া ক্যামেরার ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিম চিকিত্সকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকবেন না। ধর্মঘট ডাকলে একজন রোগী মারা গেলে দায়িত্ব নেবে কে? সকল হাসপাতালের চিকিত্সকদের ধর্মঘটে না যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম মুকুল, এটিএন নিউজের এডিটর নিউজ প্রণব সাহা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিএমএ’র পক্ষে সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান ও মহাসচিব ইকবাল আর্সলান ছাড়াও অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, ডা. আব্দুল আজিজ বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিডফোর্ড হাসপাতাল এবং বারডেম হাসপাতালে সম্প্রতি সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিবকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের প্রত্যেক কমিটিতে চিকিত্সক ও সাংবাদিক সংগঠনের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। এসব কমিটিকে ঘটনার তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
‘যার হাতে লাঠি সে ডাক্তার নয়, সন্ত্রাসী’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের হাতে লাঠি থাকবে কেন? ইন্টার্নি চিকিত্সকরা কিভাবে সাংবাদিকদের মারেন? কিভাবে এটা সম্ভব? যার হাতে লাঠি থাকবে সে ডাক্তার নয়, সে হবে সন্ত্রাসী-মাস্তান।
এদিকে গতকাল বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে চিকিত্সা শিক্ষার উত্কর্ষ নিশ্চিতকরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা কোন সমাজে বাস করছি? পুলিশ কর্মকর্তার উস্কানিতে রোগীর আত্মীয়রা ডাক্তারকে মারছে। ডাক্তার সাংবাদিকদের মারছে। ডাক্তার ও সাংবাদিক উভয়ই শিক্ষিত, সম্মানিত পেশায় নিয়োজিত। স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলাদা আইন করা হবে। যারা আইন মানবে, তাদেরকেই কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হবে। কেন দেশে মুড়ি-মুড়কির মতো কলেজ হবে? শিক্ষার ব্যাপারে কোনো আপস নয়। মানহীন কলেজ থেকে পড়ে কেউ ডাক্তার হবে না, কসাই হবে।
