আরও একবার পাখির গল্প

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪০
অ্যানিমেশন সিনেমা ‘রিও’-এর কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে। বিশেষ করে অ্যানিমেশনপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছিল ‘রিও’ সিনেমাটি। সম্প্রতি সেই জনপ্রিয়তায় ভেসে আবারও পর্দায় হাজির হচ্ছে এ অ্যানিমেশনটির নায়ক ব্লু। নীল ম্যাকাও পাখির গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ব্লু যখন ছোট ছিল সেসময় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিটকে পড়েছিল। এরপর লিন্ডা নামের একটা ছোট্ট মেয়ে খুঁজে পায় ওকে। এই লিন্ডাই তার নাম রাখে ব্লু। এরপর ১৫ বছর পেরিয়ে যায়। খুকি লিন্ডা তত দিনে তরুণী। কিন্তু ব্লু যেন ছোট্টটিই থাকে, অন্তত মনের দিক দিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, উড়তেই জানে না সে। কিন্তু নীল ম্যাকাও প্রজাতির মধ্যে ব্লুই শেষ জীবিত পুরুষ পাখি। তার ওপরই নির্ভর করছে, এই প্রজাতি টিকে থাকবে কি না। পাখি বিশেষজ্ঞ তুলিও তাই লিন্ডাকে তার পাখিসহ ব্রাজিলের রিওতে আসতে বলেন। উদ্দেশ্য, ব্লুর সঙ্গে জুয়েলের ভাব করে দেওয়া। জুয়েল হচ্ছে একই প্রজাতির নীল ম্যাকাও। কিন্তু ব্লু আর জুয়েল যেন দুই পৃথিবীর বাসিন্দা। ব্লু ছোটবেলা থেকেই মানুষের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। ভীষণই পোষ মানা। কিন্তু জুয়েল বুনো। আর সে ফিরে যেতে চায় বন্য পৃথিবীতেই। দুজনের পায়ে চেইন বাঁধা অবস্থাতেই ব্লুকে নিয়ে পালিয়ে যায় জুয়েল! এদিকে এই দুই নীল ম্যাকাওকে যে করেই হোক খাঁচায় বন্দী করতে চায় পাখি চোরাকারবারির দল। বাজারে যে তাদের প্রচুর দাম। এর পরই শুরু হয় চোরাকারবারি বনাম ব্লু-জুয়েলের লড়াই। দুজনের মধ্যে প্রেমও হয়। দুজন একই সঙ্গে লড়াই করে, লিন্ডা আর তুলিওর সাহায্য নিয়ে চোরাকারবারিদের হারিয়ে দেয়। তিনটি ফুটফুটে বাচ্চাও হয় তাদের। এই গল্প নিয়েই ২০১১ সালের এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছিল রিও। পরিচালক কার্লোস দালদানহা। অ্যানিমেশন ছবির ভক্তদের কাছে নামটি খুবই পরিচিত। তিনি যে ‘আইস এজ’-এর স্রষ্টা। ২০০২ সালে সহপরিচালক হিসেবে কাজ করলেও ‘আইস এজ’ ট্রিলজির বাকি দুটি ছবি তিনিই পরিচালনা করেছেন। পশু-পাখির জগত্টা তার চেয়ে ভালো করে রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আর কেউই জানে না। সেই তিনি আবার নিয়ে এসেছেন রিওর সিক্যুয়েল। ঠিক তিন বছর পর মুক্তি পেল ছবিটির দ্বিতীয় পর্ব। আর এবারের গল্পে দেখা যাবে, রিওতে সুখের সংসার পেতে বসেছে জুয়েল আর ব্লু। তিন সন্তানের সবচেয়ে বড়টি, কার্লা, খুব গান ভালোবাসে। মাঝেরটি বিয়া, খুবই বুদ্ধিমতী। আর সবচেয়ে ছোটটি টিয়াগো, দুষ্টুমিতে পিএইচডি করা যার সারা! তুলিও আর লিন্ডাও বিয়ে করে ফেলেছে। দুজনে মিলে গেছে আমাজনের জঙ্গলে। জুয়েলও মনে করে, তাদেরও ফিরে যাওয়া উচিত সেই জঙ্গলে, যেখানে তাদের আদি বাস। এরপর একসময় তারা সদলবলে আমাজনের উদ্দেশে রওনা দেয় ব্লু। পুরোনো বন্ধু রাফায়েল, পেদ্রো আর নিকোও যুক্ত হয়। ব্লু সঙ্গে নেয় একটা ফ্যানি প্যাক। এই অভিযানে ব্লুকে মোকাবিলা করতে হবে পুরোনো শত্রু, প্রথম ছবির ভিলেন কাকাতুয়া নাইজেলের। কোনটা বেশি কঠিন হবে ব্লুর জন্য-নাইজেলকে হারানো, এদুয়ার্দোর মন জয় করা! প্রথম ছবিতে মূল চরিত্রগুলোতে কণ্ঠ দেওয়া তারকারা এবারও কাজ করেছেন। ব্লুর কণ্ঠ দিয়েছেন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ছবিতে মার্ক জুকারবার্গের চরিত্রে অভিনয় করে সুখ্যাত হওয়া জেসি আইজেনবার্গ। জুয়েলের কণ্ঠ দিয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। এদের সাথে আরও আছেন জেমি ফক্স, ব্রুনো মার্স।