রানা প্লাজা ধসের ১১ দিন পর তাড়াশের হাফেজ সোহেলের লাশ উদ্ধার হয়। মা এক বছরেও পুত্রের শোক ভুলতে পারেনি। পুত্র সোহেলের ছবি ঘরে টাংগিয়ে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনায় কেঁদে বুক ভাসায় মা জাহেদা বেগম। জানা যায়, নিহত হাফেজ সোহেলের লাশ উদ্ধারের পর মায়ের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। প্রথম দফায় ২০ হাজার টাকা এবং দাফনের জন্য ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরে ২ লাখ টাকা স্বজনদের নিকট প্রদান করা হয়। ১ লাখ টাকার চেক সোহেলের মাকে দেয় এবং ১ লাখ টাকার চেক ২ সন্তানকে। জাহেদা বেগম দুই লাখ টাকা দুই নাতির নামে ব্যাংকে জমা রাখায় তার হাত খালি। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তার স্ত্রীকে ১২ হাজার টাকা প্রদান করেছে বলে সিরাজগঞ্জ ডিডি অফিস সূত্রে জানা গেছে। সোহেলের শোক সইতে না পেরে তার পিতা হোসেন আলী ১ মাসের মাথায় হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। সোহেলের স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে খায়। সোহেল হাফেজ হবার পর তাড়াশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খাদেম হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে। বেতন বৃদ্ধি না করায় সে রানা প্লাজায় গার্মেস্ট কোম্পানিতে চাকরি নেয়। বছর না ঘুরতেই রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পরে। বয়স্ক মা ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজে ও সোহেলের ২ সন্তানের ভরণপোষণ করছে।
