পৃথক অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৯
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ২০টি ঘর ও ভাণ্ডারিয়ায় সংবাদপত্র বিক্রয়ের ঘরসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। ভাণ্ডারিয়ায় সংবাদপত্র বিক্রয়ের ঘর ভস্মীভূত পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে সংবাদপত্র বিক্রয়ের ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। স্থানীয় দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পত্রিকা বিক্রেতা সাইদুর রহমান ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশিদ ও ওসি মতিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বান্দরবানের রুমায় ২৯টি বসতবাড়ি ভস্মীভূত বান্দরবানের রুমায় আগুনে পুড়েছে পাহাড়ীদের ২৯টি বসতবাড়ি। গতকাল বুধবার সকালে জেলার রুমা উপজেলার গ্যালাইঙ্গা ইউনিয়নের নাইক্ষ্যং হেডম্যান পাড়ায় এই র্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, জুম চাষের জন্য পাহাড়ে লাগানো আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে আগুন নাইক্ষ্যং হেডম্যান পাড়া পাহাড়ীদের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে লেলিহান শিখায় মুহূূর্তে পুড়ে গেছে পাহাড়ীদের ২৯টি কাঁচা ঘরবাড়ি। দূুর্গমতার কারণে দমকল বাহিনীর কর্মীরা যেতে না পারায় এবং পানি সংকটের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য শুধু দূর থেকে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দাররা। সাতকানিয়ায় ২০ ঘর পুড়ে গেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌর এলাকার ছমদরপাড়া ৫নং গলি এলাকায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২০টি বসতঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, আবদুর রহিম, নাসির উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মো. হাসান, শামসুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসাইন, শাহ্জাহান, মো. ইউচুপ, মো. লোকমান, ভূট্টো মিয়া, শাহ্ আলম, মো. ফেরদৌস, কালু মিয়া, নুরুল কবির, মহিউদ্দিন, নুরুল আলম, নুরুল ইসলাম, দুদু মিয়া, নুরুল ইসলাম নুরু ও মো. হুমায়ুন। স্থানীয়রা জানান, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হবে। সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত্ হোসেন বলেন, পানির উত্স না পাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হয়। বাঞ্ছারামপুরে ১০টি ঘর ভস্মীভূত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামে গত মঙ্গলবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১০টি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হচ্ছে-আবদুল বাতেন, আবদুল হক, জয়নাল, মিন্টু মিয়া ও বাদশা মিয়া। ডোমারে ৭টি ঘর ভস্মীভূত নীলফামারীর ডোমারে গত মঙ্গলবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩ পরিবারের ৭টি ঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। ডোমার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সীতাকুন্ডে ৩টি বসতঘর পুড়ে গেছে সীতাকুন্ডের ছোট দারোগারহাট পশ্চিম লালানগর বৈদ্যপুকুর গ্রামে গত মঙ্গলবার হাবিব উল্লাহ সাব-রেজিস্ট্রারের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ইসমাইল, ইদ্রিস ও নুরুল হকের ৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান। সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। চৌদ্দগ্রামে তিনটি ঘরে অগ্নিকাণ্ড কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খামারপুস্করণী গ্রামে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়রা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। মিরসরাইয়ে ৩টি ঘর ভস্মীভূত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গত মঙ্গলবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে গেছে। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে আবুল বশর ও নূরুল আবছার নামে দুইজন আহত হয়েছেন। আহত আবুল বশরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেনবাগের তিনটি বসতঘর ভস্মীভূত নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নজরপুর গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে আবদুল ওহাব, আবু তাহের ও মোহাম্মদ মামুনের তিনটি ও একটি খড়ের গাদা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে নগদ ৫ লাখ টাকাসহ ১৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান। বর্তমানে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।