নোয়াখালীর হাতিয়া, সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যৌতুকের জন্য শ্বশুরকে হত্যাসহ পৃথক ঘটনায় গত দুই দিনে তিনজন খুন হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
হাতিয়ায় একজন খুন
নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভায় গতকাল বুধবার সকালে অধিবাসী হাসান উদ্দিন সবুজ (১৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একই এলাকার আলাউদ্দিন। হাতিয়া থানা পুলিশ আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, নিহত সবুজ কলের পানির জন্য আলাউদ্দিনের বাড়িতে যায়। কলসীতে পানি ভরার সময় কিছু পানি ঘাতক আলাউদ্দিনের ছেলের গায়ে পড়ে। এতে আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে দা নিয়ে সবুজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে সবুজকে হাতিয়া হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার তাকে মৃত বলে জানান।
বেলকুচিতে শ্বশুরকে
কুপিয়ে হত্যা
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যৌতুক মামলার জের ধরে শ্বশুর শাহ আলম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মেয়ের জামাই ইব্রাহিম।
বেলকুচি থানার ওসি আব্দুল হাই সরকার জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিমের সাথে একই গ্রামের শাহ আলম মোল্লার মেয়ে কহিনুর খাতুনের সাথে প্রায় ৪ বছর আগে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ইব্রাহিম নানা অজুহাতে বার বার শ্বশুরের কাছে যৌতুক দাবি করে এবং কহিনুরকে শারীরিক নির্যাতন করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ নিয়ে শাহ আলম মোল্লা বাদি হয়ে সিরাজগঞ্জ কোর্টে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলার জের ধরেই শ্বশুর শাহ আলম মোল্লাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে বেলকুচি হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ছেলে আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে বেলকুচি থানায় একটি মামলা করেন।
শেরপুরে জমি বিরোধে খুন
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার উজানগাংপাড় গ্রামে গতকাল বুধবার সকালে জমি বিরোধে সোরহাব আলী নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই আব্দুল বারিক ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম। আহত তাছিরনকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় নিহতের পুত্রবধূ তাছিরনও আহত হন। এ ঘটনায় বারেক ও তার স্ত্রী নাজমাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত সোরহাব আলীর সাথে বারিকের ৮২ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও আছে। সোহরাবের দখলে থাকা জমিতে ধান কাটার সময় বারেক ও তার স্ত্রী পথরোধ করে রামদা ও ডেগার দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ মালিঝি নদীর পাড়ে ফেলে পালিয়ে যায়।
