মিথ্যাচারে আমরা দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। দিনে-দুপুরে, সন্ধ্যায়-রাতে যে যেভাবে পারি মুখোমুখি হয়ে নয়তো মোবাইলে মিথ্যা কথা বলে নিকটতম কাউকে ধোঁকা দিয়েই চলেছি। মিথ্যা বলার কূল-কিনারা নেই আমাদের মধ্যে—যেন মিথ্যার বিশাল সমুদ্রে আমাদের বসবাস। মিথ্যার রকমফের যে কত তা বলে কি আর শেষ করা যায়? চাকরিজীবীদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখেন-‘তীর্থস্থান আজমীর শরীফে যাবো। ২০ দিন ছুটি অনুমোদনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’ আদৌ তিনি আজমীর শরীফে কি আর যান? বরং ভারতের অন্যান্য স্থানে যান চিত্তবিনোদনের জন্য। এভাবে মিথ্যাচার করেই নেন ছুটি। কেউবা মায়ের অসুস্থতার কথা আবেদনপত্রে লিখে ছুটি নেন। বস্তুত দেখা যায়, মা অসুস্থ নন। অফিসে গিয়ে অনেকে বসের রুমে ঢুকেই নানান রকম মিথ্যা বানোয়াট গল্প কাহিনী শুনিয়ে তার অতি প্রিয়ভাজন হতে চেষ্টা করেন। কেউ আবার বাবার পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করেন। বাবা ছিলেন কৃষক-অথচ অনেকেই কাগজপত্রে লেখেন জমির মালিক। কারো বাবা চাপরাশি। তিনি স্ট্যাটাস রক্ষার জন্য বলেন, বাবা তো খাদ্য অফিসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কেউবা প্রেমিকার মন জয় করার জন্য বলেন, ফরিদপুর শহরে রাজেন্দ্র কলেজের একটু পেছনে তিনতলা বাড়িটি আমাদের। অথচ ঐ বাড়িটি অন্য একজনার। আর তার বাড়িটি একতলা টিনের ঘর পৌরসভার বাইরে। এভাবে আমরা অর্থাত্ বাঙালিরা কত যে মিথ্যাচার করছি প্রতিনিয়ত তার হিসাব কি আর আছে! ইদানীং ইতিহাস নিয়েও মিথ্যাচার শুরু হয়েছে। মিথ্যাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নিয়ে। যে যত মিথ্যাচারে পারদর্শী তাকে দেখেই বাঙালি বেশি মুগ্ধ। মিথ্যা বলা নিয়ে যদি জরিপ শুরু হয় তাহলে দেখা যাবে, বাঙালি ১০০ নম্বরে লেটার পেয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সবার মধ্যে বোধোদয় হবে-এ প্রত্যাশা করলে দোষ কোথায়?
লিয়াকত হোসেন খোকন,
রূপনগর, ঢাকা
