ঝিনাইদহ জেলায় বিশ হাজার পরিবার দুর্দশায় পড়েছে। ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নছিমন, করিমন, আলম সাধুর চালকরা। চুরি-ডাকাতি চাঁদাবাজি বাড়ছে দিন দিন। গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
আলম সাধু, নছিমন, করিমন চালকরা এনজিওর ঋণ নিয়ে এই সমস্ত ইঞ্জিনচালিত গাড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন তারা বেকার হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে গ্রাম অঞ্চলের কৃষকরা পড়েছে বিপাকে স্যালোমেশিন চালিত গাড়ি বন্ধ হয়ে পড়ায়। হাট-বাজারে কৃষিপণ্য তরি-তরকারি ধান-চাল ইত্যাদি আনা নেয়ায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। কথা হয় বেশ কয়েকজন চালকের সাথে। তারা জানায়, এনজিওর টাকা পরিশোধ না করলে ভিটেমাটি রাখবে না এনজিও কর্মীরা। তাই মাঝে-মধ্যে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অথবা কিছু টাকা পুলিশকে দিয়ে তাদের গাড়ি চালানোর চেষ্টা করে। তারপরও ওদের পুলিশের হাতে মার খেতে হয়।
দুঃখ করে একজন বলেন, আমরা তো আর মানুষ নই, তাই মার খেতে হয় পশুর মত। জানেন, কত মানুষের সংসার চলে আলম সাধু দিয়ে, সাংবাদিকদের কি এটা চোখে পড়ে না? সরকার ধনীদের মন জয় করতে গিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারছে। আর হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে, আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। ৬শ টাকা সাপ্তাহিক কিস্তি দেব কিভাবে? সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যাতে আমরা দুবেলা দু’ মুঠো ভাত খেতে পারি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চালক জানালেন, ছিলাম অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে সন্তানদের মুখে হালাল উপায়ে খাদ্য তুলে দিতে সব ছেড়ে এনজিওর ঋণ নিয়ে আলম সাধু কিনে ১০ বছর বেশ ভালোই ছিলাম, বউ ছেলে সন্তান নিয়ে। কিন্তু আর ভাল থাকছি না। কিস্তির টাকা বাকি, রোজগার নেই, কি করবো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। মধুহাটির এক প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, এখন আর ভাল নেই, কারণ নতুন করে চাঁদা ধরছে। গ্রামে থাকা যাবে না। তবে কি আবার এলাকা অশান্ত হয়ে উঠবে? ঝিনাইদহ রক্তমাখা জনপদ, আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হতে যাচ্ছে-এমন সন্দেহ পোষণ করছেন অনেকে। ৯০-এর দশকের দিকে ঝিনাইদহ জেলায় সর্বহারার উত্পত্তি হয়ে খুন-খারাবির মধ্যে ৯৭-৯৮ সালের দিকে খুনের হার কমে আসে। মানুষ কাজের মধ্যে দিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। যারা ভূমিহীন তারাই ঐ সময় চরমপন্থী সংগঠন করেছে। এখন তারাই বেশিরভাগ আলম সাধু, নছিমন করিম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
