জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেন। রায়ে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ এই দুটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ যে আদেশ দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীকে (বেগম খালেদা জিয়া) অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এ কারণে এই আবেদনের কোন সারবত্তা নেই। তাই আবেদন দুটি খারিজ করা হলো। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতে মামলা দুটির কার্যক্রম চলতে আর কোন আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়া মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এ আবেদনের উপর শুনানি না করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এটা আইনের গুরুতর লংঘন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আশা করি আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাবো। অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশের সকল সংবাদপত্রেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে খালেদা জিয়াকে দোষী না নির্দোষ একথা জিজ্ঞাসা করা হয়নি। বরং নিয়ম লংঘন করে এজলাশে না উঠেই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এরপরেও আদেশে বলা হলো খালেদা জিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আমরা বলেছিলাম ট্রাস্ট আইনের মামলা, তাই ট্রাস্ট আইনে বিচার হবে। আমরা হাইকোর্টে বলেছি, নিম্ন আদালত সঠিকভাবে আদেশ দেননি। এর সপক্ষে আমরা জোবেদা খাতুন, সাজেদা বেগম মামলায় দেওয়া রায় উল্লেখ করেছি। কিন্তু আদালত অভিযোগ গঠন বিষয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ বিশ্বাস করে আমাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
অপরদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার দুটি আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তাই আইন অনুসারে যথাযথভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলো। এখন নিম্ন আদালতে এ মামলায় বিচার কার্যক্রম চলতে আইনগত বাধা নেই।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায় গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। এ অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তিনদিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে গতকাল বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন আদালত। গতকাল দুপুরের পর হাইকোর্ট খালেদার দুটি আবেদনই সরাসরি খারিজ করে দেন। খালেদার আইনজীবীরা বিষয়টি পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে রুল জারির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক শুনানিতেই আদালত তার বিবেচনায় আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। এর ফলে আগামী ২১ মে বিচারকি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরুহওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি না আপিল বিভাগ এ বিষয়ে ভিন্নতর কোন আদেশ দেয়। খালেদার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কেনা জমির মূল্য কম দেখিয়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেজগাঁও থানায় মামলা করে। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
