প্রতিদিনই তাপমাত্রার রেকর্ড, পাঁচ বছরে ঢাকায় সর্বোচ্চ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩১
তীব্র গরমে সবাই অতিষ্ঠ। একটু বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আকাশ পানে। কখন নামবে বৃষ্টি, শীতল হবে ধরনী! কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে থাকায় আগামী তিন-চার দিনে তাপমাত্রা কমার লক্ষণ প্রায় নেই। এ সময়ে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনাও নেই। আর বৃষ্টি না হলে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা আরও বাড়বে। গত কয়েকদিনের টানা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই এতটুকু। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। লোডশেডিং গরমের যন্ত্রণাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এরসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বর ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্নস্থানে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ প্রতিদিনই আগের দিনের রেকর্ড ভাঙ্গছে। মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ছিল এ পর্যন্ত বছরের উষ্ণতম দিন। কিন্তু গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। রাজধানী ঢাকাতেও প্রতিদিনই তাপমাত্রা বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ঢাকাতে তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি, গতকাল তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০২ দশমিক ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এরআগে ঢাকাতে ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের আরো তিনটি স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট), খুলনায় ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ঈশ্বরদীতে ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু ধরনের তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ ও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আকাশে কোনো মেঘের বলয় নেই। এতে তাপমাত্রার তীব্রতা বায়ুমন্ডলে কোনো ধরনের বাধা না পেয়ে সরাসরি চলে আসে এবং গরমের তীব্রতা বাড়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা (ডিএফও) বজলুর রশীদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি বছর এপ্রিলে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও এবার বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতো। আগামী ২৭-২৮ এপ্রিলের আগে বৃষ্টিপাত হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না বলে তিনি জানান। তবে বৃষ্টিপাত দেশের যেখানেই হোক, তার প্রভাব সারাদেশেই পড়বে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১৪৭ মিলিমিটার। কিন্তু গত ২০ দিনে সারাদেশে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৬২ মিলিমিটার। অতিরিক্ত গরমের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া এমনকি টাইফয়েড পর্যন্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।