সেই ১৭ দিনের কথা মনে পড়লে এখনো আঁতকে উঠি :রেশমা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৬
‘ধসে পড়া রানা প্লাজায় ১৭ দিন আটকে থাকার সেই দুঃসহ যন্ত্রণাময় স্মৃতি আর মনে করতে চাই না। সে সময়ের কথা মনে পড়লে এখনও ভয়ে আঁতকে উঠি।’ বলছিলেন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া সেই আলোচিত গার্মেন্টস শ্রমিক রেশমা। ১৭ দিনের ছুটি কাটাতে বর্তমান কর্মস্থল ওয়েস্টিন হোটেল থেকে তিনি এখন সাভারের রাজাশন মহল্লায় তার ভগ্নিপতির বাসায় অবস্থান করছেন। গত বছর রানা প্লাজা ভবন ধসে ১১৩৬ জন নিহত হন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে ধ্বংসস্তূপে ১৭ দিন আটকে থাকার পর রেশমাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সাভারে রেশমার অবস্থান নিশ্চিত করে গত মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদক তার বাসায় উপস্থিত হন। রেশমা বাইরে থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার দেখা মিলে। আলাপচারিতায় রেশমা নতুন কর্মস্থলে খুব ভাল আছেন উল্লেখ করে জানান, ৯ ঘণ্টা ডিউটি শেষে অফুরন্ত সময় তিনি নিজের জন্য ব্যয় করতে পারেন, একই সাথে গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ খুবই কষ্টসাধ্য বলেও মন্তব্য করেন। ধসে পড়া রানা প্লাজায় আটকে থাকার স্মৃতি মনে পড়ে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেই সময়ের কথা আর মনে করতে চাই না। উদ্ধারের পর মিডিয়ার সামনে তাকে কেন কথা বলতে দেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে রেশমা বলেন, সে সময় তিনি অসুস্থ থাকার কারণে উদ্ধারকর্মীরা তাকে কারো সাথেই কথা বলতে দেননি। উদ্ধারের পর তার স্বাভাবিক চাহনি ও শরীরে পরিচ্ছন্ন পোশাকসহ বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তরই তিনি এড়িয়ে যান। উদ্ধার হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বেষ্টিত থাকলেও বর্তমানে একাকী যাতায়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রেশমা বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে অভিভাবকরা আবেদন করায় তাদের সাথে তাকে আসতে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ১৭ দিন পর ১০ মে উদ্ধারকর্মীরা রেশমাকে জীবিত উদ্ধার করে। এ ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে রেশমার অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়ার খবরটি ব্যাপক প্রচার পায়। পরে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি দেয়। ইট ভেঙে জীবন চালান রেশমার মা ! ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, রানা প্লাজা ধসে উপজেলার ৬ জন নিহত হন। আর ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার হওয়া রেশমার বাড়িও একই উপজেলায়। তিনি বর্তমানে ৩৫ হাজার টাকা বেতন পেলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তার মা উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের জোবেদা বেওয়ার জীবন-যাপনের করুণ চিত্র। স্বামীহারা জোবেদা আগে যেভাবে হাট ঝাড়ু ও ইটের খোয়া ভেঙে জীবন কাটাতেন, আজও সেই কাজ করেই তাকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। অথচ রানা প্লাজা ধসের পর জোবেদা খেয়ে না খেয়ে দিন-রাত খুঁজে ফিরেছেন নিখোঁজ মেয়েকে। অবশ্য সেনানিবাসে চিকিত্সাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী রেশমাকে দেখতে এসে তার হাতে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এরপর আর কোন অনুদান পাননি। ঘটনার পর অনেকেই অনেক আশ্বাস দিলেও রেশমার মা’র পুনর্বাসনে কেউ এগিয়ে আসেনি। নিহতদের পরিবারের খোঁজ নেয় না কেউ রানা প্লাজা ধসে এই উপজেলার নিহতরা হলেন, পালশা ইউনিয়নের ধাওয়া মাঝিয়ান গ্রামের শরীফ উদ্দিনের কন্যা সান্তনা আকতার (১৮), রুপসীপাড়া গ্রামের নওশাদ আলীর কন্যা নিপা খাতুন (১৯), বামনগড়া আধাটিকা গ্রামের আব্দুল হামিদের কন্যা আফরোজা (১৮), পাইকপাড়ার আব্দুর রশিদের কন্যা রেশমা আক্তার (২২), ভেকশী গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেনের কন্যা রীনা আকতার ও বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র আব্দুল করিম। নিহতদের পরিবারের লোকজন জানান, তারা তাদের উপার্জনকারী সন্তান হারিয়েছেন। বেঁচে থাকলে তারা সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে পারতো। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা যে অনুদান পেয়েছেন তা খুবই নগণ্য। পরিবারগুলো বর্তমানে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।