উপজেলা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম পায়নি ইসি

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৭
গণমাধ্যমে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও প্রকাশ্যে সিল মারার ছবি প্রচারিত ও প্রকাশিত হলেও সদ্য সমাপ্ত হওয়া উপজেলাগুলোর নির্বাচনে কোন অনিয়ম পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৩০টি উপজেলার নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল ইসি। নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনিই (রিটার্নিং কর্মকর্তা) আবার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। গতকাল পর্যন্ত ইসি সচিবালয়ে ২০টি জেলার শতাধিক উপজেলার তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। এতে দেখা যায়, ওইসব উপজেলায় নির্বাচনে কোন অনিয়মই হয়নি। বরং নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে আরো দাবি করা হয়েছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অতিরঞ্জিত ও সঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, সবার জানা ছিল তদন্ত করলে কি হবে। যারা তদন্ত করেছেন তারা সরকারি চাকরিজীবী, তাদের কাছ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে বেশি কিছু আশা করা ঠিক না। সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে তারাতো টিকে থাকতে পারবে না। কিছুই করার নেই। যেটা হওয়ার সেটিই হয়েছে। এই তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনিয়ম খতিয়ে দেখতে নিজস্ব কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়। কিন্তু অনেক স্থানে তারা অভিযোগকারী খুঁজে পাননি। অনিয়মের বিষয়ে কেউ সাক্ষ্যও দিতে চাননি। তবে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ধাপে এ পর্যন্ত ৪৫৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও আগামী ১৯ মে আরো ১৪ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ হওয়া নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা, অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান, রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল প্রদান, নির্বাচনের পরবর্তীতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হুমকি-ধামকির বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে কমিশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, নানা অপরাধ-অনিয়ম এবং ভোটকেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছিল ইসি। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সহিংসতা ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ও কমিশনে দেয়া প্রার্থীদের অভিযোগকে ভিত্তি ধরে ৮০টি ঘটনা এবং বিভিন্ন প্রার্থীর লিখিত ৫০টি অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। গণমাধ্যমের নাম উল্লেখের পাশাপাশি প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম যুক্ত করে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন এডিসি জেনারেল। ২০টি জেলার শতাধিক উপজেলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনে কোন কেন্দ্র দখল ও ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনিয়ম হলেও প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ এপ্রিল প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজী হননি। যশোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, ভোট কারচুপির প্রতিবাদে প্রতিপক্ষ দলের হরতাল ডাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল ছিল। উপজেলার সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। একইরকম মতামত দেখা গেছে গাজীপুর এবং ফেনীর ক্ষেত্রেও। গাজীপুরের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের কোনো স্থানেই নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ধরনের অনিয়ম, জালভোট প্রদান কিংবা ভোটকেন্দ্র দখল হয়নি। ফেনীর সদর, পরশুরাম, ফুলগাজী এবং সোনাগাজী উপজেলাতেও ভোট কারচুপির অভিযোগ থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সুষ্ঠু, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। নোয়াখালীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যম যা প্রচার করেছে তা সঠিক ছিল না। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, এই প্রতিবেদন হাস্যকর।