তরুণদের ভাবনায় মহাদেব সাহার কবিতা
সম্পাদনা : অমর্ত্য আতিক
প্রচ্ছদ :নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
প্রকাশকাল :বইমেলা ২০১৩
একথা আজ সবারই জানা, তরুণ-তরুণীদের একটি বিশাল অংশ মহাদেব সাহার কবিতায় বুঁদ হয়ে থাকেন। প্রেমে পড়ার মতো, কেউ কেউ প্রেম নিবেদনে দ্বারস্থ হন তাঁর কবিতার! সেই তরুণ-তরুণীরা যখন কবির কবিতা মূল্যায়ন করতে চান, তাদের চোখে কেমন তা প্রকাশ করতে যান, এমন একটি খবর নিঃসন্দেহে সুখবর সব অগ্রজ কবির ক্ষেত্রেই। প্রথম কবিতার বই ‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা একশত তিন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে লিখে চলেছেন অবিরাম। পড়তে পড়তে জানা হয়ে যায় ব্যক্তিগত জীবনের অনেক খুঁটিনাটি তথ্যও। পঞ্চাশের দশকে দশ-বারো বছর বয়সে উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে আবৃত্তি করেছিলেন কবিতা।
বইটি না পড়লে জানা হতো না, কবিরা কখনো কখনো পৌঁছে যান ‘বড়’ ডাক্তারের ভূমিকায়—‘একবার একটা প্রশ্ন করেছিলাম এসএমএস পাঠিয়ে। প্রশ্নটা ছিলো, জীবন কী? মহাদেব সাহা বলেছিলেন, আমি বুঝতে পারছি তুমি খুব সমস্যায় আছো। জেনে রাখবে জীবন রেললাইনের মতো সমান্তরাল না। স্থান, কাল, পাত্র এর ওপর ভিত্তি করে আকার আকৃতির রঙের মতো জীবন।...আমার বিশেষ বিপদের দিনেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ যে ঔষধ লিখে দিয়েছিলেন তা আমার মনোবল বাড়ায় নি।’
শিশু-কিশোরদের জন্য উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘টাপুর টুপুর মেঘের দুপুর’ ‘ছবি আঁকা পাখির পাখা’ ‘সরষে ফুলের নদী’ —আগুন ঝরা দুপুর বেলা/ ঘুমোয় সারা পাড়া,/ এলোমেলো বাতাস করে/ মনটা দিশেহারা (দুপুর বেলা)। শোনো একদিন এই দেশটাতে/ মুক্তিযুদ্ধ হয়-/ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির/ ঘোচাতে দুঃখ ভয়;/ এই দুটি হাত/ স্বাধীন—অবাধ/ হয়ে ওঠে দুর্জয়-/ হে কিশোর শোন,/ আমরা করেছি যুদ্ধ জয় (হে কিশোর শোনো)। লিখেছেন নাটকও।
যখন কবির মুখ থেকে ধ্বনিত হয় এমন সব কবিতা, তখন কি আর কেবল ‘প্রেমের কবি’, ‘নিসর্গের কবি’ অভিধায় আটকে রাখলে চলে? —মরবার আগে তুমিও আঘাত হানো/ এই যুদ্ধে বন্ধু তোমার জয় (দিন মজুরের গান)। যখন কিছুই নেই মনে রেখো/ তখনো সর্বশেষ আশা এই মানুষ (মানুষের সাথে থাকা)। যখন তোমার দিকে ফিরে চাই কমরেড লেনিন/ মনে হয় কোনো ভয় নেই-/ শোষণের দিন শেষ পৃথিবীতে মেহনতী মানুষ জাগছে ( লেনিন, এই নাম উচ্চারিত হলে) কিংবা যখন বলে ওঠেন, আফ্রিকার বুকের ভেতর আমি শুনতে পাই/ এই বাংলাদেশের হাহাকার/ বাংলাদেশের বুকের ভেতর ভেতর আফ্রিকার কান্না/ এশিয়া-আফ্রিকা দুই বোন। (আফ্রিকা তোমার দুঃখ বুঝি)।
মহাদেব সাহার সৃিষ্টভুবনের আপাত অনালোকিত বিষয়গুলোও তরুণদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি, এতেই প্রমাণিত হয় বইটি সার্থকতা পেয়েছে। লেখক তালিকায় সূচিবদ্ধ হয়েছেন তেত্রিশ জন। তরুণদের পাশাপাশি অনুপম হাসান, মোহাম্মদ নুরুল হক, চন্দন চৌধুরীর উপস্থিতি বইটিকে ঋদ্ধ করেছে।
