অন্তর্গত অভিমানের নিটোল ধারাপাত

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪৩
তৃতীয় শরীর শাহিন লতিফ প্রচ্ছদ :সব্যসাচী হাজরা প্রকাশক : মেঘ মূল্য :১০০ টাকা। শূন্য দশকের কবি শাহিন লতিফ। অবশ্য দশকওয়ারি বিভাজন কবির জন্যে জরুরি নয়। কবির মূল্যায়ণ কবিতায়। ‘তৃতীয় শরীর’ শাহিন লতিফ-এর ‘শায়ের’ ঢংয়ে লেখা কাব্যগ্রন্থ। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত আবেগ এই গ্রন্থের কবিতাগুলোর ক্ষুদ্র শরীরে চমত্কার শৈল্পিক দ্যুতি ছড়িয়েছে। তাঁর আবেগ অর্থহীন নয়। সমষ্টির জীবনের গহিন-গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বেদনা, ভালোবাসার গ্যালাক্সি থেকে ছিটকে পড়ার যাতনাবোধ এই কবির আবেগকে উদ্বেলিত করেছে, কিন্তু হোলডিংচ্যুত করেনি। ফলে ‘তৃতীয় শরীর’-এর কবিতাগুলো যথার্থ কাব্যরসে সিক্ত হয়েছে। একটি বৈঠকী ঢংয়ে শাহিন লতিফ তাঁর কবিতাগুলোকে ভাষাবদ্ধ করেছেন। কখনো ফ্রয়েডীয় কখনো প্লেটোনিক চেতনার আবাহনের ভেতর দিয়ে কবিতাগুলোর গতিপথ নির্মিত হলেও কোথাও প্রতিধ্বনি তুলেনি রিরঙসার শরীরী টঙ্কার কিংবা অনিকেত দর্শনের আওয়াজ। প্রেম কিংবা ভালোবাসার ঠিকানালোক অনুসন্ধানের বেলায় ভেলকিবাজির শিকার হলেও শাহিন লতিফ ক্রোধাগ্নির পরিবর্তে নিটোল ঝরনাজলের স্নিগ্ধ আওয়াজের মতো অন্তর্গত অভিমানকে কাব্যভাষা দিয়েছেন এভাবে—‘কোথায় প্রেম!/ আমি সব দরোজায় টোকা দিয়ে যাই।’ অস্থিরতা নয়, এক অনির্বচনীয় শীতলতা এই কবির কাব্য নির্মাণের পথে স্বাতন্ত্র্যবোধকে উদ্ভাসিত করেছে। সাধারণ আকৃতির গ্রন্থ থেকে কিছুটা ছোট অবয়বে নির্মিত তৃতীয় শরীর কাব্য নিঃসন্দেহে দৃষ্টিনন্দন। এই কাব্যের পাঠকপ্রিয়তা সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে আমরা মনে করি।