মানুষ মানুষের জন্য। মানব সেবা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে গড়ে উঠে বায়তুশ শরফ আনজুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠন এর সূচনা ঘটে ১৯৫২ সালের দিকে। প্রখ্যাত পীর কুতুবুল আলম শাহ সূফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার (রহ.) এর উদ্যোগে এই সংগঠনটি গড়ে উঠে। প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র পরিসরে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও পরবর্তী পর্যায়ে এর কার্য্যক্রম চট্টগ্রামের সীমানা পেরিয়ে সারা বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এখন আর কোন ক্ষুদ্র সংগঠন নয়। দেশের সেরা সেবা মূলক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সূফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার (রহ.) এর ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য খলিফা শাহ সূফী হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ.) এই সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিলে তিলে সংগঠনের কার্যক্রম সমপ্রসারিত করতে থাকেন। তিনি এই সংগঠনের কার্যক্রমের পাশাপাশি তাঁর স্বীয় পীরের পদাঙ্ক অনুযায়ী শরীয়ত তরীক্বতের প্রচার ও প্রসারে নিরলসভাবে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বিভিন্ন সেবাধর্মী পরিকল্পনা প্রণয়ন, গ্রহন, বাস্তবায়ন তথা খেদমতের উদ্দেশ্যে নিজের সামগ্রিক শক্তি সামর্থ দিয়ে নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন। তিনি তরীকায়ে আলীয়ায়ে কাদেরীয়ার মাধ্যমে তাজক্বিয়ায়ে নফস ও ছফায়ে কলবের জন্য বিভিন্ন মাহফিল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেন। দীর্ঘজীবন এই সংগঠনের সেবা করে ১৯৯৮ সালে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। হযরত আবদুল জব্বার সাহেবের সুযোগ্য উত্তরসূরী পীরে কামেল হযরত শাহ্ মাওলানা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দীন (ম:জি:আ:) বর্তমানের এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে এই সংগঠন এর কার্যক্রম আরো বেগবান হয়েছে। বায়তুশ শরফ আনজুমানে ইত্তেহাদের সার্বিক কর্মকান্ডের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হল ইসলামের আলোকে ধর্ম কর্মের সমন্বয়ে মানুষকে সত্যিকারের মোমেনে রূপান্তর করা। মসজিদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজ সেবা করা। উপযুক্ত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও মানুষের ধর্মীয়, তাহজিব-তমদ্দুনের উন্নয়নের সাথে সাথে তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মার পরিশুদ্ধ সাধন করা। আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ এর পরিচালনাধীন মসজিদসমূহ “মসজিদ বায়তুশ শরফ নামে পরিচিত। বর্তমানে সারাদেশে ১৬৭টি ” বায়তুশ শরফ মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সারা দেশে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০টি এতিমখানা পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে ২৫টি হেফজখান রয়েছে। তাছাড়া ১টি ইসলামী গবেষনা কেন্দ্র, ২টি একাডেমী (হাইস্কুল), ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭টি ইসলামী পাঠাগার, ২টি ইসলামী পুস্তকের লাইব্রেরী, ২টি টেইলারিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রেস কম্পোজিটার্স ট্রেনিং সেন্টার ১টি, ছাপাখানা ১টি, হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিত্সা কেন্দ্র ৬টি, মত্স চাষ প্রকল্প ১টি সহ অসংখ্য সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় মাহফিল নিয়মিত ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই সংগঠনের সর্ববৃহত্ প্রকল্প হচ্ছে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (এম,এ) মাদ্রাসা। ৩১ বছর পূর্বে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মাদ্রাসার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামের আদর্শিক মিল্লাতের জন্য একটি সার্বজনীন ও একক জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা। এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান বলেন “ ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের এই মাদ্রাসা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা তিন হাজার। শিক্ষকের সংখ্যা পঞ্চাশ। এই মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণি থেকে মাষ্টার্স পর্যন্ত ক্লাস রয়েছে। দুই শিফটে ক্লাস চলে। জাতীয় পর্যায়ে দু বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরষ্কার লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী চিকিত্সক, প্রকৌশলী, আইনজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা হয়েছেন। প্রতিবছর সমাপনি, জেডিসি, দাখিল, আলীম, ফাজিল, কামিল পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা অভাবনীয় সাফল্য লাভ করে থাকে। এই মাদ্রাসার কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষে বৃহত্ কমপ্লেক্স নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রকৃত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়ে থাকে।
