দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ কতদূর?

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৩
স্বাধীনতার চার দশক পার হয়ে গেছে। অনেকবার দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য জরিপ হয়েছে। জরিপকারী সংস্থাগুলো দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সম্প্রসারণের সপক্ষে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়নি। ২০০০ সালে ক্যানাডিয়ান রেলওয়ে ক্যানারেল জরিপ চালিয়ে বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জরিপের খসড়া রিপোর্ট পেশ করে। প্রস্তাবিত রেলপথ নির্মিত হলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সেটা খুবই লাভজনক হবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব সাড়ে ৯৬ কিলোমিটার। এই সাড়ে ৯৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলার! ইতিমধ্যে ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে; এখন রেলপথ নির্মাণ ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। কক্সবাজার গুন্দুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ডলার এবং দেশীয় মুদ্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এখন এই ব্যয়ও বাড়বে সন্দেহ নেই। ২০০১ সালে কানাডিয়ান রেলওয়ে দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুন্দুম পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মিত হলে এই এলাকায় প্রচুর শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, বিশেষ করে গুন্দুম এলাকায় সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এবং কাগজ ও বস্ত্রকল স্থাপনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ট্রেনে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন পণ্য পরিবাহিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তদুপরি মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে এই বন্দরে পণ্য পরিবহনের জন্য এককভাবে এ ধরনের আরো একটি রেললাইনের প্রয়োজন হবে। এসকাপ প্রস্তাবিত ট্রান্স এশিয়ান রেলপথ মায়ানমারের ভেতর দিয়ে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। এই পরিকল্পনা থেকে মায়ানমারের গুন্দুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ক্যানারেলের জরিপ রিপোর্টে দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আরামদায়ক ভ্রমণের উপযোগী ট্রেন সার্ভিস চালু হলে পর্যটক ও পণ্য পরিবহন বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়। পরিশেষে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। জাফর আলম, সহ-সভাপতি, কক্সবাজার সমিতি, ঢাকা