সবার জন্য উন্মুক্ত ধানমন্ডি মাঠ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১২
রাজধানীর ধানমন্ডি খেলার মাঠ সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মাঠ নিয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তির আন্দোলন ও মামলার মধ্যেই গতকাল এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে সিটি করপোরেশন। দুই পক্ষের বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি মাঠ উন্মুক্ত করে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ‘ধানমন্ডি খেলার মাঠ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত’ এমন নির্দেশনা দিয়ে কয়েকটি নোটিশ মাঠের মূল ফটকসহ মাঠের সীমানা দেয়ালের কয়েকটি স্থানে লাগিয়ে দেয় করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম চক্রবর্তী বলেন, ধানমন্ডি খেলার মাঠ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মাঠ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসায় ও সম্প্রতি কিছু ঝামেলা তৈরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে মাঠে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মাঠটি কোনো প্রতিষ্ঠান, দল বা ব্যক্তির নয়। নোটিশের ফলে জটিলতার নিরসন হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধানমন্ডি ৮ নম্বরে গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন মাঠটি এক সময় সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে ২০০৯ সালে ধানমন্ডি ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড করার পর মাঠটি ঘিরে দেওয়া হয়। মাঠে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মাঠের প্রধান ফটকে নিরাপত্তা রক্ষীও বসায় তারা। এর প্রতিবাদে এবং ‘মাঠটি ব্যবহারের অধিকার সকলের রয়েছে’ এমন দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনরা। তাদের দাবি, ধানমন্ডি খেলার মাঠে স্থানীয় কিশোর-তরুণরা দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা করছে। একটি ক্লাবের অধীনে এ মাঠ চলে যাওয়ায় স্থানীয়রা সে অধিকার হারিয়েছে। তাই সকলের জন্যই খেলার মাঠটি উন্মুক্ত রাখতে হবে। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে মাঠের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে বলে। কিন্তু আদালতের রায় শেখ জামাল কর্মকর্তারা মানছেন না দাবি করে গত বছর পুনরায় হাইকোর্টে নালিশ নিয়ে যায় পরিবেশবাদীরা। এর ফলে একটি নোটিশও জারি করা হয়। মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার খেলার মাঠের ভিতরে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন। পরদিন ‘জোর করে’ মাঠে প্রবেশের অভিযোগ এনে শেখ জামাল ক্লাব কর্তৃপক্ষ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, সালমা এ সফি এবং ক্রীড়া সংগঠক কামরুননাহার ডানাকে আসামি করে মামলা করে। গত বুধবার ঐ মামলায় ঢাকার হাকিম আদালত থেকে জামিন নেন চারজন।