জাপায় নতুন দৃশ্যপট

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৪
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নতুন দৃশ্যপটে এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়াকে কেন্দ্র করে দলটি ‘এরশাদপন্থি’ ও ‘রওশনপন্থি’, এই দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের মন্ত্রী-এমপিসহ তাদের সমর্থক-অনুসারীরা ছিলেন রওশনের সঙ্গে, আর নির্বাচন বর্জনকারী ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারীরা ছিলেন এরশাদকে ঘিরে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এরশাদও এখন ভিড়ে গেছেন রওশনসহ এমপি-মন্ত্রীদের দলে। আর নির্বাচন বর্জনকারী ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারী নেতা-কর্মীরা এখন দু’কূল হারা। দৃশ্যপট বদলে এখন দলটিতে বহমান ‘এরশাদ-রওশন গ্রুপ’ ও ‘নির্বাচন বর্জনকারী গ্রুপ’। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়া এরশাদের রওশন গ্রুপে ভিড়ে যাওয়ার মূল পর্ব শুরু হয় গত ১০ এপ্রিল। ওইদিন দলের দীর্ঘ ১৪ বছরের মহাসচিব ও ঘনিষ্ঠ সহচর এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়ে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করেন এরশাদ। এর মধ্য দিয়েই কার্যত রওশনের দলে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নেন তিনি। অবশ্য এর আগে জাপার ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে ২৭ মার্চ রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একমঞ্চে পাশাপাশি চেয়ারে বসেছিলেন এরশাদ ও রওশন। নির্বাচনের পর ওইদিনই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দলীয় অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ ও রওশন অভিন্ন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ, বিভক্তি বা বিরোধ নেই, আমরা এক ও অভিন্ন।’ ‘আমরা একাট্টা’- আনুষ্ঠানিকভাবে এই বার্তা দিতে দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে যৌথসভা করার উদ্যোগ নিয়েছেন এরশাদ। বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে আগামী রবিবার এ সভা করা হচ্ছে গুলশানে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে। পাঁচ মাস পর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডিয়ামের এই সভায় প্রেসিডিয়ামের সদস্যদের পাশাপাশি যোগ দেবেন দলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপিরাও। রওশন এরশাদও থাকবেন। তবে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না মহাসচিবের পদ হারানো রুহুল আমিন হাওলাদার। এছাড়া ওইদিন নিজ গ্রামের বাড়িতে থাকার কারণে প্রেসিডিয়ামের সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানসহ আরও কয়েকজনও বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছেন। প্রসঙ্গত, এরশাদের নির্দেশ মেনে যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন, অধ্যাপক দেলোয়ার তাদের একজন। গতবছরের ১৯ নভেম্বর নির্বাচনকালীন সরকারে জাপার যোগদান, একই বছরের ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে এরশাদের সরে যাওয়া, ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে র্যাবের গাড়িতে করে ঢাকা সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এরশাদের ভর্তি, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন শেষে গত ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে তার বাসায় ফেরা, পরবর্তীতে এরশাদকে রওশনসহ দলের মন্ত্রী-এমপিদের এড়িয়ে চলা এবং এতদিন পর্যন্ত দলীয় অনুষ্ঠানে যোগদানে এরশাদের ডাকে তাদের সাড়া না দেয়ার পর রবিবারই প্রথম প্রেসিডিয়াম বৈঠক করতে যাচ্ছেন এরশাদ। এই বৈঠকের বিষয়ে জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু বুধবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ ীয় কার্যালয়ে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি দীর্ঘসময় চলবে। প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের সংসদ সদস্যরা সবাই এদিন প্রাণ খুলে বক্তব্য রাখবেন। যার যতো ক্ষোভ, কষ্ট, পরামর্শ বা মতামত রয়েছে, সবাই তা বলার সুযোগ পাবেন। বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদও উপস্থিত থাকবেন। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও দলীয় কোনো অনুষ্ঠানে এরশাদ আমন্ত্রণ জানালেও সাড়া দিতেন না রওশনসহ দলের মন্ত্রী-এমপিরা। তাহলে কী এরশাদের সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আপনারা এখন তার কাছে ফিরে যাচ্ছেন, নাকি তিনি আপনাদের কাছে ফিরে আসলেন, এরকম এক প্রশ্নের জবাবে জিয়াউদ্দিন বাবলু ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সবসময়ই একসাথে ছিলাম। তাকে (এরশাদকে) আমরা কখনও ত্যাগ করিনি, আমরা তার সাথেই আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো।’ হাসপাতালে ভর্তি হাওলাদার জাপার সদ্য বিদায়ী মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গেছে, কিছুদিন ধরেই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। তার হার্টে একটি ব্লকও ধরা পড়েছে। তিনি বর্তমানে ডা. ফাওয়াজ শুভ’র তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। আগেরদিন বুধবার রাতে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে হাওলাদার বলেন, ‘এরশাদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। দলে আছি, থাকবো। এনিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। নতুন মহাসচিবসহ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের জন্য শুভকামনা থাকলো।’