রানা প্লাজা

কম দামে পোশাক বানানোর চরম মূল্য

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:২৫
এক বছরেও নিখোঁজ ৮৫ জনের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের আত্মীয়রা ২৪ এপ্রিল স্বজনদের খোঁজে সাভারে ধ্বসে পরা কারখানা প্রাঙ্গনে জড়ো হন। ছবি: সাইফুল ইসলাম  ক্ষতিপূরণের টাকার প্রকৃত দাবিদার নিয়েও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রকৃত দাবিদারের হাতে যেতে আরো অনেক সময় লেগে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা নিহতের উপর স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা নির্ভরশীল থাকলে তাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের হাতে এই অর্থ পৌঁছানো অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয় রিয়াদ হোসেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা ছিল রানা প্লাজা ধস। সাড়ে তিন হাজার গার্মেন্টস শ্রমিককে চাপা দেয়া অভিশপ্ত সেই ভবনের ধ্বংসস্তূপ দিনের পর দিন দেখেছে বিশ্ববাসী। চাপা পড়া ভবনে আটকে থাকা মানবতার হাহাকার শুনেছে। ধ্বংসস্তূপের গভীর কুঠুরিতে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কাছে হার মানার অনুভব লাখ লাখ মানবতার চোখের কোণে অশ্রু এনেছে। দেখেছে স্বজন হারাদের বুকফাটা আর্তনাদ। ছেলে-মেয়ে’র ছবি নিয়ে তপ্ত রোদের নিচে মা-বাবা’র দিনের পর দিন অপেক্ষা। এই দেখা বড় কষ্টের। বড় হাহাকার নিয়ে তবু দেখেছে বাংলাদেশ। দেখেছে গোটা বিশ্ব। কম পয়সায় পোশাক বানানোর চরম মূল্য দিল বাংলাদেশ। হারিয়ে যাওয়া সেই ১ হাজার ১৩৫টি প্রাণ কোনদিন আমাদের মাঝে ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের এই ত্যাগ বেঁচে থাকা লাখ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের ভাগ্যের কি কোন পরিবর্তন আনলো? গত এক বছরে এই খাতের শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় কী ধরনের পরিবর্তন আনলো - এমন প্রশ্নের জবাবের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। চুল-ছেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরুতে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিশ্ব গণমাধ্যম কর্মী এই মুহূর্তে বাংলাদেশে। অভিশপ্ত রানা প্লাজায় ৫টি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করত ৩ হাজার ৬৩৯ (এই সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে)। নিহত ১ হাজার ১৩৫ জনের মধ্যে ২৯১ জনের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে। এসব লাশের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বাদ-বাকীদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ধসেপড়া ওই ভবন থেকে জীবিত উদ্ধার ২ হাজার ৪৩৮ জন যার মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার শ্রমিক আহত ছিলেন। এর মধ্যে এক বা একাধিক অঙ্গহানি হয়েছে এমন গুরুতর আহত রয়েছেন ৩৬ জন। এ ছাড়া এখনও ৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি। রানা প্লাজার ওই পাঁচ গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করা নিহত, আহত ছাড়াও অন্য সব শ্রমিকও কোনো-না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ খাত নিয়ে সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, মালিকপক্ষ ও ব্র্যান্ডদের উদ্যোগে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সম্পন্ন হয়েছে, কিছু কার্যক্রমে অগ্রগতি এসেছে। আর কিছু কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ সবের বিশ্লেষণ করছে ক্রেতা দেশ ইউরোপ আমেরিকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ সরকারি-বেসরকারি নানা সংস্থা। এ খাতের সংস্কার কার্যক্রমের মূল্যায়নে শ্রমিক অধিকার সংগঠনের নেতার বলছেন, কিছু অগ্রগতি দেখলেও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সন্তুষ্ট নয়, সরকার আর মালিক পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে একক বাজার হিসেবে সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু অগ্রগতি হলেও শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। মোটা দাগে যে পরিবর্তন শ্রমিক সংগঠন ও ইউরোপ আমেরিকার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ২০০৬ সালের শ্রম আইনে সংশোধন আনা। গত এক বছরের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করা হয়েছে। এর ফলে কারখানায় শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের যৌথ দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩ হাজার টাকা থেকে ৭৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩শ’ টাকা করা হয়েছে। এই মজুরি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কারখানা বাস্তবায়ন করেছে বলে সমপ্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কারখানায় অগ্নি ও ভবনের নিরাপত্তা মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে পরীক্ষা বা পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা। ঝুঁকির বিবেচনায় এসব কারখানা ভবন সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করবে তারা। আইএলও’র সঙ্গে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় প্ল্যান অব অ্যাকশন (এনটিপিএ) চুক্তি করেছে সরকার। রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সরানোর অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ার সাড়ে পাঁচশ’ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মোটাদাগে এগুলো ছিল রানা প্লাজা পরবর্তী গত এক বছরের সুশাসন কার্যক্রম। এর বাইরেও সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), কলকারখানা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সমপ্রতি টিআইবি গত এক বছরের কার্যক্রমের উপর তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায় এই খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১০২টি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। আর বাদবাকী ৯ শতাংশ উদ্যোগের বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সার্বিক অগ্রগতিকে টিআইবি’র পক্ষ থেকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল বলেন, কিছু অগ্রগতি হলেও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের মত মৌলিক জায়গায় অগ্রগতি আটকে আছে। আরো যেসব পদক্ষেপ কলকারখানা পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়েছে। কারখানা পরিদর্শন নীতিমালা প্রণয়ন ও চেকলিস্টের মাধ্যমে কারখানার গ্রেডিং প্রদান, কারখানার শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার তৈরি, কারখানার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় অফিস হতে আঞ্চলিক অফিসে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। পোশাক শিল্প অধ্যুষিত ঢাকা অঞ্চলে ৯টি নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের সিন্ধান্ত, ২১৮ জন নতুন গুদামঘর পরিদর্শক নিয়োগের অনুমোদন, তাজরীন ফ্যাশন পরবর্তী ১১শ’ কারখানা পরিদর্শন এবং অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা সনদ ও নিবন্ধনে ওয়ান স্টপ সেবা চালু করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে গার্মেন্টস শিল্প পল্লী স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অগ্নি ও ভবনের কাঠামোগত ত্রুটি পরীক্ষার লক্ষ্যে আইএলও’র সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর, আলাদা টাস্ক ফোর্স গঠন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কারখানা মালিক সংসদ সদস্যকে না রাখা, ইউনিয়ন পরিষদকে ভবন নির্মানের অনুমোদন না দেয়ার জন্য পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ, কারখানা মালিক, মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, ও ব্র্যান্ডদের উদ্যোগেও কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ কবে? রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে হতভাগ্য শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ইস্যুটি। নিহতদের পরিবার, আহত বা কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটির সুরাহা করা গেল না এই দীর্ঘ সময়েও। ফলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অনুদানসহ বিক্ষিপ্ত কিছু অনুদানের বাইরে ক্ষতিপূরণ পায়নি তারা। অবশ্য সর্বশেষ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) উদ্যোগে গঠিত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কত হবে এখন পর্যন্ত তারও চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি নিহত, নিখোঁজ বা গুরুতর আহতদের ক্ষতিপূরণ সাড়ে ১৪ লাখ টাকা সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে এটি কত হবে বা এই অর্থ কারা দেবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২২ কোটি ৩১ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন উত্স থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। শ্রম সচিব মিকাইল শিপার ইত্তেফাককে জানান, শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী, নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ এক লাখ টাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে এ পর্যন্ত সনাক্ত হওয়া ৯ শতাধিক নিহতের পরিবারকে (নির্ভরশীলতার সংখ্যা বিবেচনায়) ১ লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যাদের মরদেহ সনাক্ত করা গেছে তাদের সবাই এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। এর বাইরে গুরুতর আহত ৩৬ জন শ্রমিককে ১০ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত উদ্ধারকর্মী কায়কোবাদের চিকিত্সা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ১ কোটি ৩৫ লাখ এবং নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আরো ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। রানা প্লাজা ধসের সময় তত্কালীন শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানায় দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তবে এ অঙ্ক নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের তত্কালীন জিওসি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন। তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নিহত, নিখোঁজ ও গুরুতর আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ সাড়ে ১৪ লাখ টাকা, আর আহত শ্রমিকদের জন্য ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে। তবে এই অঙ্কটি কত হবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সুরাহা আসেনি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনের ১২১ ধারায় বলা হয়েছে, নিহত বা আহত শ্রমিকের পরিবারে তার উপর যতজন নির্ভরশীল ছিল তার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঠিক না হওয়ার পাশাপাশি এই টাকা কোথা থেকে আসবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, এই দায় কার আর ক্ষতিপূরণ আসবে কোথা থেকে? আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র মনে করেন, প্রধান দায়টা কারখানার মালিকের হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর পোশাকের ক্রেতা আন্তর্জাতিক ব্র্র্যান্ডগুলোও দায় এড়াতে পারে না। তাই এসব পক্ষকে সম্মিলিতভাবেই দায় নিতে হবে। রানা প্লাজার ৫টি কারখানা থেকে পোশাক নিত অন্তত ২৮টি ব্র্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ওয়ালমার্ট, চিলড্রেন্স প্লেস, ক্যাটো ফ্যাশন্স, যুক্তরাজ্যের বোন মার্শে, প্রিমিয়ার ক্লদিং, প্রাইমার্ক, বেলজিয়ামভিত্তিক সিএন্ডএ, ইটালির বেনেটনসহ ফ্রান্স, জার্মানী, স্পেনের ২৯টি ব্র্যান্ড রানা প্লাজার এসব কারখানায় পোশাক বানাত। এর মধ্যে একমাত্র ব্রিটিশ ব্র্যান্ড প্রাইমার্ক এই হতাহতের ঘটনায় দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউ ওয়েভ বটমসের ৬৮১ জন শ্রমিকের সবাইকে আইএলও’র রীতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে। বাদবাকি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ৫/৬টি ছাড়া কেউই দায় স্বীকার বা ক্ষতিপূরণে এগিয়ে আসছে না। আইএলও’র উদ্যোগে আশার আলো ক্ষতিপূরণ নিয়ে গত এক বছরের হতাশার মধ্যে আশার আলো দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ৪ কোটি মার্কিন ডলারের (৩১২ কোটি টাকা) একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন। আইএলও এবং ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল যৌথ উদ্যোগে এ তহবিল গঠন করে। এ তহবিলে কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাওয়া গেলে নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের একটি ভালো অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব হবে। নিহত শ্রমিকদের কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল। আহত শ্রমিকরা আরো বেশি পরিমাণ অর্থও পেতে পারেন (ক্ষতির বিবেচনায়)। সরকার, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন এই তহবিলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তবে এই তহবিলে এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রাইমার্কের দেয়া ৯০ লাখ ডলারসহ)। প্রাইমার্ক ছাড়াও বোনমার্শে, কানাডার লোবলো, স্পেনের ম্যাঙ্গে, ইন্ডিটেক্সসহ কয়েকটি ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে এই তহবিলে অর্থ প্রদান করেছে। অবশ্য বাদবাকি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে কয়েকটি রানা প্লাজা পরবর্তী কারখানার অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করতে চায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তহবিলে কাঙ্ক্ষিত অর্থ না যোগাড় হলে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এদিকে ক্ষতিপূরণের টাকার প্রকৃত দাবিদার নিয়েও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রকৃত দাবিদারের হাতে যেতে আরো অনেক সময় লেগে যাবে বলেও মনে করছেন সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। কেননা নিহতের উপর স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা নির্ভরশীল থাকলে তাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের হাতে এই অর্থ পৌঁছানো অনেক সময়সাপেক্ষ বিষয়। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতের স্মরণে ২৪ এপ্রিল বিজিএমইএতে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয় বেশ কয়েকজন এতিম সন্তান। তারা বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় পড়াশোনা করছে। এমন ১৪টি শিশু পড়ে চট্টগ্রামের ওরকা হোমসে। অনুষ্ঠানে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ আর শারীরিক কসরত সবাইকে মুগ্ধ করেছে। সম্মিলিত কণ্ঠে তারা গাইল ‘আমরা করব জয় একদিন...।’ নিরাপদ কর্মপরিবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিন জয় করুক বিশ্ব।