সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের অনেক দেশকেই নতুন করে যে সমস্যাটির মোকাবেলা করতে হয়েছে সেটি হলো নানা ধরনের দাঙ্গা। আর এই দাঙ্গা মোকাবেলায় নিজেদেরকে আরও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন প্রযুক্তির ও সর্বোচ্চ আঘাত সহনক্ষম কতগুলো দাঙ্গারোধী গাড়ি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনার পর প্রায় ৮২০ মিলিয়ন পাউন্ড দামী ‘ওয়াউই টেন’কেই এ কাজে সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে করা হয়। যথাসময়ে অস্ট্রিয়ান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোজেনবোরের কাছ থেকে এ ধরনের ৭৮টি গাড়ি সংগ্রহের কার্যাদেশও দেওয়া হয়। কিন্তু বিপত্তি বাধে এই গাড়িটি প্রথমবারের মতো পরীক্ষা করতে গিয়েই। যেখানে দাঙ্গাকারীদের ছোড়া পাথর থেকে শুরু করে ছোটখাটো বিস্ফোরকের ধাক্কাও অনায়াসে সামলে নেওয়ার কথা ছিল রোজেনবোরের এই দাঙ্গারোধী গাড়িটির সেখানে পরীক্ষায় নেমে মামুলি ডিম আর টেনিস বলের আঘাতেই ক্ষতিগ্রস্থ হয় গাড়িটি। পুলিশের মধ্য থেকেই কয়েকজন সদস্যকে দাঙ্গাকারী সাজিয়ে গাড়িটির পরীক্ষামূলক যাত্রায় এর দিকে পেট্রোল বোম বা পানিভর্তি প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে ছোড়া হয় ডিম কিংবা টেনিস বলের মতো হালকা সামগ্রী। আর এতেই ৩৩ টন ওজনের এই গাড়ির সামনে থাকা আর্মার্ড কাঁচে বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রথম দিকটায় সে রকমভাবে জানাজানি না হলেও সম্প্রতি এ ধরনের পরীক্ষায় ব্যবহূত কয়েকটি গাড়ি মেরামতের জন্য যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পুনরায় টাকা চাওয়া হয় তখনই রোজেনবোরের এই গাড়িগুলোর দূর্বলতার কথা ব্যপকভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে রোজেনবোরের কাছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জার্মান পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এত বড় নির্মাণ ত্রুটির পরও গাড়িগুলো হয়তো ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে তার আগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্লাসগুলো মেরামত করা যাবে কি না সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শটুকু আমাদের জানতে হবে।’
