ধ্বনি হলো ভাষার মূল উপাদান
বাংলা দ্বিতীয়পত্র
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এখানে বাংলা ব্যাকরণের ‘ধ্বনি ও বর্ণ’ বা ‘ধ্বনিতত্ত্ব’ নামক অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল সংজ্ঞা অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় উল্লেখ করা হলো। মূলত এগুলো বাংলা ব্যাকরণ শিখনের মূল ভিত্তি বলে বিবেচিত। বাংলা ব্যাকরণে জ্ঞান অর্জন করতে গেলে সবার আগে এগুলো জানা দরকার বলে আমি মনে করি। এগুলো লেখার সময় এমনভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের এগুলো আত্মস্থ করতে একবারের বেশি যেনো দুবার পড়তে না হয়।
অধ্যায় : ধ্বনি ও বর্ণ
বাকপ্রত্যঙ্গ: ফুসফুস থেকে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উচ্চারণে সহায়ক সকল প্রত্যঙ্গকে বাগ্যন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ বলে। যেমন: তালু, দাঁত, জিহ্বা, স্বরযন্ত্র ইত্যাদি।
ধ্বনি: বাকপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি হলো ভাষার মূল উপাদান।
বর্ণ: ধ্বনির লিখিত রূপকে বর্ণ বলে। বাংলা ভাষায় সরল বা অসংযুক্ত বর্ণ ৫০টি।
যেমন: ক, চ, ট, ত, শ প্রভৃতি।
স্বরধ্বনি: ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুখ-বিবরের কোথাও বাঁধাপ্রাপ্ত না হয়ে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনি ১১টি। যেমন: অ, আ, ও, এ ইত্যাদি। তবে ‘ঋ’ প্রকৃত প্রস্তাবে স্বরধ্বনি নয়।
ব্যঞ্জনধ্বনি: ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুখ-বিবরের কোথাও-না-কোথাও বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। ব্যঞ্জনধ্বনি ৩৯টি।
যেমন: ক, চ, ট, ত, প ইত্যাদি।
স্বরবর্ণ: স্বরধ্বনির প্রতীক বা চিহ্নকে স্বরবর্ণ বলে। বাংলা স্বরবর্ণ ১১টি।
ব্যঞ্জনবর্ণ: ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক বা চিহ্নকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
মাত্রা: স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় যে সোজা দাগ থাকে সেটাকে মাত্রা বলে।
পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি
অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি
মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি
কার: স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কার বলে। স্বরবর্ণ মোট ১১টি কিন্তু কার মোট ১০টি। ‘অ’ এর সংক্ষিপ্ত রূপের জন্য কোনো চিহ্ন নেই।
মৌলিক স্বরধ্বনি: যে স্বরধ্বনি মূল থেকে সৃষ্টি এবং যাকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। সেগুলো হলো: ই, এ, অ্যা/এ্যা, আ, অ, ও, উ।
যৌগিক স্বরধ্বনি: একসঙ্গে উচ্চারিত দুটি স্বরধ্বনির এক-একটি গুচ্ছকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে। যৌগিক স্বরধ্বনির অন্যান্য নাম হলো — সন্ধিস্বর, সান্ধ্যক্ষর, দ্বি-স্বর, যুগ্মস্বর। বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরধ্বনি ২টি — ঐ, ঔ। তবে বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি।
হ্রস্বস্বর: যে স্বরধ্বনির উচ্চারণে কম সময় লাগে তাকে হ্রস্বস্বর (হ্রস্বস্বরধ্বনি) বলে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ।
দীর্ঘস্বর: যে স্বরধ্বনির উচ্চারণে অধিক সময় লাগে তাকে দীর্ঘস্বর (দীর্ঘস্বরধ্বনি) বলে।
যেমন: আ, ঈ, এ, ঐ, ও, ঔ।
অক্ষর: নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে একটি শব্দের যতটুকু অংশ একবারে একত্র উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। যেমন: ‘স্পন্দন’ শব্দটিতে ‘স্পন’, ‘দন্’ — এই দুটি অক্ষর আছে।
স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্টব্যঞ্জন: যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখ-বিবরের বিভিন্ন উচ্চারণ-স্থান স্পর্শ করে তাকে স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্টব্যঞ্জন বলে। ক থেকে ম পর্যন্ত এই ২৫টি ব্যঞ্জনকে স্পৃষ্টব্যঞ্জন বলে।
অল্পপ্রাণ ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপ কম থাকে অর্থাত্ মুখ দিয়ে বাতাস কম বের হয় তাকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। বর্গীয় প্রথম এবং তৃতীয় ধ্বনি হলো অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ক, গ, চ, জ প্রভৃতি।
মহাপ্রাণ ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপ বেশি থাকে অর্থাত্ মুখ দিয়ে বাতাস বেশি বের হয় এবং শেষে একটা ‘হ’ ধ্বনির উচ্চারণ আসে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। বর্গীয় দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ধ্বনি হলো মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: খ, ঘ, ছ, ঝ প্রভৃতি।
ঘোষ ধ্বনি: যে-সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরযন্ত্রের ভেতরকার স্বরতন্ত্রী কেঁপে ওঠে, সে-সব ধ্বনিকে ঘোষ ধ্বনি বলে। বর্গীয় তৃতীয় ও চতুর্থ ধ্বনি হলো ঘোষ ধ্বনি। যেমন: গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ প্রভৃতি।
