এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। একধরণের মশার কামড়ে এ জ্বর হয়। মশাটির নাম এ্যাডিস এজিপটি। এ মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। চিকুনগুনিয়া রোগটি জীবনের জন্য হুমকি নয় কিন্তু আক্রান্ত হলে শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি হয়। তাঞ্জানিয়া এবং মোজাম্বিকের এক জাতি ম্যাকওনেড। চিকুনগুনিয়া নামটি এসেছে ম্যাকওনেড ভাষা থেকে। এর মানে ‘যা বাঁকিয়ে দেয়’। এ জ্বরে এত বেশী শরীর ব্যথা হয় যে রোগী বেঁকে যায় ব্যথায়।
উপসর্গ
ভাইরাসে আক্রান্ত মশার কামড়ের
২-৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হয়। যে যে উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে আছে-
১. জ্বর
২. গায়ে ফুস্কুড়ি
৩. অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। অনেক সময় খুব তীব্র ব্যথা হয়
৪. মাংসপেশীতে ব্যথা
৫. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
৭. শরীর দুর্বলতা হওয়া
৮. কংজাংটিভাইটিস ইত্যাদি।
চিকুনগুনিয়া রোগটি খুব মারাত্মক নয়। কিন্তু ভাল হয়ে যাবার পর দীর্ঘদিন ক্লান্তি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। তবে ভাল খবর হছে এ ভাইরাস মা থেকে বাচ্চার মধ্যে সংক্রমিত হয় না।
ডায়াগনোসিস
চিকুনগুনিয়া রোগটির সাথে বেশ কিছু রোগের মিল আছে। ডেঙ্গু জ্বরের সাথে এর প্রচুর মিল। তাই নিশ্চিত হবার জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা খুবই প্রয়োজন। PCR এবং ELISA এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে চিকুনগুনিয়া রোগটি সনাক্ত হওয়া যায়।
চিকিত্সা
চিকুনগুনিয়া রোগের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিত্সা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিত্সা করা হয়। এ অসুখের কোন ভ্যাকসিন নেই। তবে কোন কোন দেশে ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায় দ্রুত সফলতা আসবে। এ রোগে যে জ্বর ও ব্যথা হয় তার জন্য অ্যাসপিরিন বা NSAIDS তেমন কার্যকরী নয়। তবে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া
গেছে। চিকুনগুনিয়া রোগের
প্রতিরোধ খুব একটা কঠিন নয়। মশার কামড়ের হাত থেকে
বাঁচলেই এ রোগ প্রতিরোধ করা
যায়। ফলে দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারী ব্যবহার করা উচিত। আশেপাশের পরিবেশ মশামুক্ত রাখতে হবে। কয়েল বা সেপ্র
ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে অসুখটি প্রতিরোধ আরো সহজ হবে।
ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল
