হামাস ও ফাতাহ সমপ্রীতি চুক্তির ঘোষণা দেয়ায় ফিলিস্তিনের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিল করেছে ইসরাইল। এ মাসের ২৯ তারিখ শান্তি আলোচনার জন্য সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির গত নয় মাসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে চলেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার সময় আবারো বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার ইসরাইলের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বৈঠক করেন। দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টার বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে মন্ত্রিপরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ফিলিস্তিনের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেয়। শুধু তাই নয়, ইসরাইল ফিলিস্তিনের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
ইসরাইল শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাও এর জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। ফিলিস্তিনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সায়েব ইরাকাত বলেছেন, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইল কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের নেতৃত্বও তাদের করণীয় নির্ধারণ করবেন। ইসরাইল কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার থেকে আমাদের কাছে বড় বিষয় ফিলিস্তিনের পুনর্মিলন ও ঐক্য। এদিকে ইসরাইল শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দিলেও যু্ক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। জন কেরি উভয়পক্ষকে নমনীয় মানসিকতা দেখিয়ে আবারো আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন এস্টন ফিলিস্তিনের উভয়পক্ষের ঐকমত্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সাথে ইসরাইলের সাথে শান্তি আলোচনাকে তারা প্রাধান্য দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে গত বুধবার হামাস ও ফাতাহ জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে সমপ্রীতি চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। সাত বছর ধরে চলা অনৈক্যের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গাজায় বৈঠক শেষে আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সরকার গঠন করা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করারও ঘোষণা দেন উভয় দলের নেতারা।
২০০৭ সালে হামাস এবং ফাতাহ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে দুই দল কয়েকবার সমপ্রীতি চুক্তির ঘোষণা দিলেও তা কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
