পশ্চিমারা রক্তের দাগ লেগে থাকা পোশাক কিনবে না

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩৮
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেজ বলেছেন, কারখানাগুলোতে স্বাধীন ইউনিয়নের শক্তিশালী অবস্থান ছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্য কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ শ্রমিক ইউনিয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে রানা প্লাজার মতো আরেকটি বড় দুর্ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে যেকোনো সময় ঘটতে পারে। এটা হলে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ইমেজ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। আর বাংলাদেশ সরকার ও বিজিএমইএ’কে একটি সহজ বার্তা বুঝতে হবে যে, শ্রমিকের রক্ত মাখা পোশাক পশ্চিমা ক্রেতারা কিনবে না। রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক বছর পূর্তিতে গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী সিনেটর এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এক বছর আগের এই সপ্তাহে রানা প্লাজা ধসে ১১৩০ জন বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিলো। অনেকের জন্য এই ট্রাজেডি পদক্ষেপ গ্রহণের বার্তা দিয়েছিলো। শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কারখানার নিরাপত্তার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও শ্রমিক নিরাপত্তায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এসবের পরও দেশের ভেতরে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বছরটি গতানুগতিকভাবেই কাটিয়েছেন। অনেক কারাখানার মালিক শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনে বাধা দিয়েছে। কিছু কারখানার ম্যানেজার ইউনিয়নের সংগঠকদের উপর হামলা করেছে বলে খবর পাওয়া যায়। অথচ সরকার ও বিজিএমইএ শ্রমিক ইউনিয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার ও বিজিএমইএকে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশে রানা প্লাজার মতো ঘটনা আগামীতেও ঘটতে পারে।