গাইবান্ধা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঘাঘট খালটি প্রভাবশালীদের দখলে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, খালটি দখলমুক্ত করে এটি সংস্কার করে এর দু’ধারে পার্ক গড়ে তোলা হোক। যাতে থাকবে বসার আসন, আসনের উপর ছাতা, দু’পাড় জুড়ে থাকবে ফলদ ও বনজ গাছের সারি। মোট কথা, এটি হবে অপূর্ব এক বিনোদনের কেন্দ্র। কিন্তু সরকারি-বেসরকারিভাবেই খালটি দখল করে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কারো এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই।
জানা যায়, বন্যার হাত থেকে গাইবান্ধা শহরকে রক্ষা করতে ২০০০ সাল থেকে ২০০২ সালে লুপ কাটিং করে ঘাঘট নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়া হয়। এ কারণে ঘোড়ার খুড়ের মতো আকৃতি নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খাল হিসেবে জন্ম হয় ঘাঘট খালের। তখন গাইবান্ধাবাসী ঘাঘট খালটি বিনোদনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য দাবি তোলেন। ওই দাবির সমর্থনে ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডও ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে খাল উন্নয়নে একটি কর্মসূচি হাতে নেয়। এজন্য প্রধান কার্যালয় থেকে কিছু থোক বরাদ্দও আসে। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই কর্মসূচি আর আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে, দীর্ঘদিন ঘাঘট খালের কোন সংস্কার না হওয়ায় তাতে কচুরিপানা এবং অন্যান্য আবর্জনা জমে তা মজা জলাশয়ে পরিণত হয়। খালের দু’ধারে গড়ে উঠে ঘর-বাড়ি, দোকানপাট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিস-মার্কেট ইত্যাদি। কেউ আবার ঘাঘট নদীর ভেতর মাটি ভরাট করে ঘেরাও দিয়ে রেখে জায়গা দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সরকারের ভূমি বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এবং জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির একাধিক সভায় ঘাঘট খাল সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। এব্যাপারে সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কাজ হয়নি। প্রশাসনিক কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পরিত্যক্ত ঘাঘট খালের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পৌর মেয়র মো. শামছুল আলম বলেন, শহরবাসীর চিত্তবিনোদনের জন্য খালটি সুদৃশ্য ও মনোরম লেকে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি শহরবাসীর কাঙ্ক্ষিত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।
