ভিন্নতর পরিবেশ
ভিক্ষা করালে ৫ বছর জেল
মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হবে না
জাতিসংঘের শিশু সনদে স্বাক্ষরের দুই যুগ পর এবং জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের প্রায় এক বছর পর দেশের সব জেলা সদরে একটি করে শিশু আদালত গঠন করেছে সরকার। প্রত্যেক জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের ১ম আদালত শিশু আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই আদালতের এখতিয়ার হবে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালতের ক্ষমতাসমূহ। তবে সমন জারি, সাক্ষী তলব, কোন দলিলাদি বা বস্তু উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারসমূহ প্রয়োগ করবে। শিশু আদালতের পরিবেশ ও বিচার কার্যক্রম হবে প্রচলিত আদালতের চেয়ে ভিন্নতর। শিশুর মনোজগতে বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে এ কারণে পুলিশসহ শিশু আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক পরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি সাধারণ আদালতের দালানকোঠার বাইরে কোথাও আদালত স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে শিশু আইন-২০১৩-এ। আদালত যেখানেই হোক লাল সালু দিয়ে ঘেরাও দেয়া যাবে না। বিচারের ক্ষেত্রেও গোপনীয়তা রক্ষা করতে বলা হয়েছে। বিচারাধীন মামলা অথবা বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমে শিশুর স্বার্থ পরিপন্থী সংবাদ প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া সংবাদপত্রের (প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি) নিবন্ধন দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখাসহ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এদিকে শিশুর অপরাধ যাই হোক তার জন্য কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া যাবে না। আইনে শিশুর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী দেশ। ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সনদে স্বাক্ষর করে। ওই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচলিত শিশু আইন বাতিল করে গত বছরের ২০ জুন জাতীয় সংসদে প্রণীত হয় শিশু আইন-২০১৩। আইনে বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন কার্যকর হবে। আইনটি প্রণীত হওয়ার প্রায় এক বছর পর চলতি মাসে শিশু আদালত গঠন করা হয়। প্রত্যেক জেলা সদরে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিশু আদালত গঠন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। কোন জেলায় একাধিক অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বিদ্যমান থাকলে উক্ত জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত, অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতে বিচারক বিদ্যমান না থাকলে উক্ত জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালত এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম ও ২য় আদালতে বিচারক বিদ্যমান না থাকলে অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালত শিশু আদালত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। শিশু আইনের ১৬(২) ধারা মোতাবেক কোন জেলায় অতিরিক্ত দায়রা জজ না থাকলে উক্ত জেলার জেলা ও দায়রা জজ তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনে শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলা ৩৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। আদালতে কোন শিশুর উপস্থিতির প্রথমদিন হতে দিন গণনা শুরু হবে বলে আইনে বলা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে অতিরিক্ত ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।
দণ্ডসূমহ
শিশু আইনে কোন ব্যক্তি কোন শিশুর প্রকৃত দায়িত্ব সম্পন্ন বা তত্ত্বাবধানকারী হয়ে তাকে অসত্ পথে পরিচালিত কিংবা যৌনবৃত্তিতে প্রবৃত্ত করার অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শিশুকে বাজি ধরতে বা ঋণ গ্রহণে উসকানি প্রদান, শিশুকে যৌনপল্লীতে থাকার অনুমতি দিলে ওই ব্যক্তি ২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুর দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র বা অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্তু বহন বা পরিবহন করান, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। এরূপ অপরাধের জন্য তিনি ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
কার্যক্রম শুরু হয়নি
শিশু আদালত গঠিত হলেও প্রাসঙ্গিক কাজগুলো সমাপ্ত না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু করেনি শিশু আদালত। আইনে প্রচলিত আদালতের ধারণা এবং কাঠামোর বাইরে ভিন্নতর পরিবেশে শিশু আদালত স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে।
