তালিকা হালনাগাদ ৪৬ লাখ ভোটার বাড়বে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৬
এক বছর বিরতির পর এবার তিন ধাপে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিকল্পনার আওতায় নতুন করে ৪৬ লাখ ভোটার অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে। আগামী ১লা জুন শুরু হয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আইনে প্রতি বছর ভোটার হালনাগাদ করার নির্দেশনা থাকলেও ভুলেই গিয়েছিল কমিশন। এজন্য ভোটারযোগ্য কয়েকলাখ ভোটার উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারকের লিখিত নোটের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটার হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, তিনধাপে ভোটার হালনাগাদ করার প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে কমিশনের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন সভার কার্যপত্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনটি ধাপে দেশের ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়ন, ৩১৩টি পৌরসভা, ১২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও ১১টি সিটি করপোরেশনের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হবে। সারাদেশে দৈনিক ৩৬ হাজার ভোটারের নিবন্ধন করা হবে। প্রতিটি ধাপে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার নিবন্ধন করা হবে। ৫৪ হাজার নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এজন্য তথ্যসংগ্রহকারী ৪৮ হাজার ৩শ এবং সুপারভাইজার থাকছেন ৯ হাজার ৬৬০ জন। প্রথমে উপকূল ও হাওড় অঞ্চলের উপজেলা, পরে মফস্বল পর্যায়ের উপজেলা এবং সবশেষে সিটি করপোরেশনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে। প্রথম ধাপে ১লা জুন থেকে ১২ জুন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১লা জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বর ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি টাকা। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ। এবার ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটারযোগ্য যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদেরকে নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগের দু’টি হালনাগাদের তুলনায় বাদপড়া ভোটারের চাপ কম থাকবে। এবারও আইনের ব্যতয় ২০১২ সালের মতো এবারও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে আইনে ব্যতয় ঘটেছে। বর্তমান ভোটার তালিকা আইনের ১১ ধারায় বলা আছে, ‘কম্পিউটারে ডাটাবেজ সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা, প্রতি বছর ২রা জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে হালনাগাদ করতে হবে।’ কিন্তু আইনে মার্চ মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কোন সুযোগ না থাকলেও বিদায়ী কমিশন ২০১২ সালের মার্চ মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত করে বিদায় নেয়। বর্তমান কমিশন গত ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয়। তাদের যোগদানের আগেই হালনাগাদের আইনি নির্ধারিত সময় চলে যায়। বর্তমান কমিশন যোগ দিয়ে দেখেন তিন বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়নি। এই সংকটের কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালের ১০ মার্চ থেকে ভোটারের তথ্য সংগ্রহ কাজ শুরু করে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলে। হালনাগাদে যাদের বয়স ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি ১৮ বছর পূর্ণ হয় তাদেরকে ভোটার করা হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদের কার্যক্রমের সঙ্গে তা অন্তর্ভুক্ত করে। আইনগত জটিলতার কারণে বর্তমান কমিশন এই কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে তারা ভোটার হওয়া থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন। পূর্বের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার হালনাগাদ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন না থাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। সার্ভার স্টেশনের কাজ শেষ হলেও প্রতি বছর ভোটার হালনাগাদ করা সহজ হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে অনেক রকমের অসুবিধা থাকতেই পারে। কিন্তু তা কোনভাবেই আইনকে অমান্য করে নয়। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১১ ধারায় যেখানে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদের নির্দেশনা রয়েছে সেখানে কমিশনকে এই আইন মান্য করতে হবে। নতুবা ওই আইনকে সংশোধন করতে হবে।